
জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ। হামলায় প্রায় আটটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি একটি এ-১০ থান্ডারবোল্টের ডানাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে অবগত কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার ভোরে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য প্রজেক্টাইলের আঘাতে বিমানঘাঁটিতে থাকা প্রায় আটটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে ক্ষতিগ্রস্ত বিমানগুলোর বেশিরভাগই পরে মেরামত করে আবার ব্যবহারের উপযোগী করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ-১০ থান্ডারবোল্টও ক্ষতিগ্রস্ত
হামলায় ‘ওয়ারথগ’ নামে পরিচিত এ-১০ থান্ডারবোল্ট সামরিক বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সিবিএস। বিমানটির একটি ডানা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এ-১০ থান্ডারবোল্ট মূলত স্থলভিত্তিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা এবং ঘনিষ্ঠ বিমান সহায়তার জন্য ব্যবহৃত মার্কিন সামরিক বিমান। ফলে জর্ডানের মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে এ ধরনের বিমানের ক্ষয়ক্ষতি সামরিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
হামলা ঠেকাতে ছোড়া হয় ৩০টির বেশি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র
ইরানের হামলা প্রতিহত করতে জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী ব্যাপক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
সিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য প্রজেক্টাইল ঠেকাতে মার্কিন বাহিনী ৩০টির বেশি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।
তবে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকার পরও কয়েকটি মার্কিন সামরিক বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য সামনে এসেছে।
ইরানের পাল্টা হামলার দাবি
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর কথা জানায়। ওয়াশিংটনের দাবি ছিল, ইরান একটি মার্কিন নৌযানে হামলার চেষ্টা করেছিল। এর জবাব হিসেবেই তেলবাহী ট্যাংকারগুলোতে হামলা চালানো হয় বলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
এরপর ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) পাল্টা হামলার দাবি করে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা আটটি তেলবাহী ট্যাংকার, দুটি যুদ্ধজাহাজ এবং জর্ডানে অবস্থিত ওই মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।
তবে এসব দাবির সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বাড়ছে আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা
জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় সরাসরি হামলা এবং পাল্টা সামরিক পদক্ষেপের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে সিবিএসের সাংবাদিক জেনিফার জ্যাকবসের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, রাতভর চলা ইরানের হামলায় মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে থাকা বেশ কয়েকটি মার্কিন সামরিক বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে এসব ঘাঁটিতে হামলার ঘটনা ভবিষ্যৎ সামরিক পরিকল্পনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে—ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই পাল্টাপাল্টি হামলা কতটা বিস্তৃত হবে এবং এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ ও গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথে কতটা পড়বে। পরিস্থিতির পরবর্তী developments-এর ওপরই এখন নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।
সূত্র: সিবিএস নিউজ, রয়টার্স, আল জাজিরা