২০২৭ সালের পবিত্র হজের জন্য প্রাথমিক নিবন্ধন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নিবন্ধনের সময়সীমা শেষ হবে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর। ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের পর এ সময়সীমা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই। ফলে আগ্রহীদের দ্রুত নিবন্ধন সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে এবার প্রায় ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালনের সুযোগ পাবেন। তবে নিবন্ধন শুরুর এক মাসের বেশি সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন মাত্র ২ হাজার ১১৪ জন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৫১ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ হাজার ৩৬৩ জন রয়েছেন। ফলে অধিকাংশ কোটা এখনো খালি রয়েছে।

হজে অংশগ্রহণের জন্য প্রথমে ৩০ হাজার টাকা জমা দিয়ে প্রাক-নিবন্ধন করতে হবে। এরপর ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করা যাবে। চূড়ান্ত নিবন্ধনের জন্য নির্ধারিত হজ প্যাকেজের অবশিষ্ট অর্থ আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।

সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যবস্থাপনায় ই-হজ সিস্টেমের মাধ্যমে নিবন্ধন করা যাচ্ছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা নিজেই ই-হজ পোর্টালে অ্যাকাউন্ট খুলে আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, জেলা ও উপজেলা মডেল মসজিদ, বায়তুল মোকাররম কার্যালয় এবং ঢাকা হজ অফিস থেকেও নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে।

সরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধনের অর্থ সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় ভাউচারের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। অন্যদিকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সির নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে অর্থ জমা দিতে হবে। এ সংক্রান্ত তথ্য হজ পোর্টালে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির প্রোফাইলে পাওয়া যাবে।

হজযাত্রীর পাসপোর্টের মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৈধ থাকতে হবে। প্রাথমিক নিবন্ধনের সময় প্রশিক্ষণ ও টিকা গ্রহণের জেলা, হজের ধরন এবং প্যাকেজ নির্বাচন করতে হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, ১৫ বছরের কম বয়সী কেউ হজে যেতে পারবেন না। এছাড়া গুরুতর হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার বা কিডনি রোগ, জটিল স্নায়বিক বা মানসিক সমস্যা এবং ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের হজের অনুমতি দেওয়া হবে না।

ক্যানসারের জন্য কেমোথেরাপি, বায়োলজিক্যাল থেরাপি বা রেডিওথেরাপি গ্রহণরত রোগীরাও হজে অংশ নিতে পারবেন না। একইভাবে যক্ষ্মা, হেমোরেজিক ফিভারের মতো জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদেরও হজযাত্রার অনুমোদন দেওয়া হবে না।

এ ছাড়া গর্ভাবস্থার শেষ দুই মাসে থাকা বা ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থায় থাকা নারীরা হজযাত্রার জন্য প্রয়োজনীয় ফিটনেস সনদ পাবেন না।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version