পাবনার ফরিদপুর উপজেলার বনওয়ারীনগর সরকারি সিবিপি উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি কক্ষ ব্যক্তিগত আবাসন হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু ইউসুফ হেলালীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিদ্যালয়ের একটি ল্যাব কক্ষে বসবাসের পাশাপাশি সেখানে বিভিন্ন আসবাবপত্র ও গৃহস্থালি সামগ্রীও সংরক্ষণ করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন ল্যাব হিসেবে নির্ধারিত কক্ষটি দীর্ঘদিন ধরে আবাসিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ব্যবহারিক ক্লাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী বিদ্যালয়ে কক্ষের সংকট রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে একটি শিক্ষাকক্ষ ব্যক্তিগত ব্যবহারে চলে যাওয়ায় সমস্যা আরও বেড়েছে। পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকা এবং হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর না করার অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল হাই প্রশ্ন তুলেছেন, যদি বিদ্যালয়ের অর্থে ফ্রিজ, আলমারি, গ্যাসের চুলা কিংবা অন্যান্য আসবাবপত্র কেনা হয়ে থাকে, তাহলে সেগুলোর অনুমোদন, হিসাব ও ব্যবহার সম্পর্কে স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন। তিনি এসব সামগ্রীর ক্রয়সংক্রান্ত নথিপত্র, বিল-ভাউচার এবং স্টক রেজিস্টারের তথ্য প্রকাশের দাবি জানান।

এলাকাবাসীর মতে, একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের কক্ষ ব্যবহারের বৈধতা, প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যয়ের হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আতিকুজ্জামান বলেন, কোনো বিদ্যালয়ের ভবন ব্যক্তিগত আবাসন হিসেবে ব্যবহার করা নিয়মবহির্ভূত। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান, বিষয়টি তাদের নজরে আসার পর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রাথমিকভাবে খোঁজ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু ইউসুফ হেলালী বলেন, অতীতে পরীক্ষার সময় সাময়িকভাবে সেখানে অবস্থান করেছিলেন। দূর থেকে যাতায়াতের অসুবিধার কারণে এমনটি করতে হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও জানান, সেখানে থাকা কিছু আসবাবপত্র তাঁর ব্যক্তিগতভাবে কেনা। বিদ্যালয়ের সভাপতির অনুমতি ছাড়া কক্ষে অবস্থান করাকে তিনি নিজের ভুল হিসেবে স্বীকার করেছেন।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ইমামা বানিন বলেন, বিদ্যালয়ের কোনো কক্ষ আবাসিক কাজে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version