সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের একটি অংশ এখন বলছে, ভবিষ্যতে তারা আর বিএনপিকে ভোট দিতে চায় না।
শনিবার সকালে রাজধানীর মতিঝিলে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লং মার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
অলি আহমদ বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এমন পরিস্থিতি তিনি আগে দেখেননি—যেখানে সরকার গঠনের পরপরই জনগণের একটি অংশ সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। তাঁর ভাষ্য, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিএনপির প্রতি হতাশা প্রকাশ করে ভবিষ্যতে ভোট না দেওয়ার কথা বলছেন।
লং মার্চে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে এলডিপি সভাপতি বলেন, এত সকালে বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা বহন করে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে অলি আহমদ দলের নেতাকর্মীদের কর্মসূচিতে উপস্থিতির বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অতীতের বিভিন্ন বক্তব্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি।
বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট নিয়ে অতীতে বিএনপির পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করে অলি আহমদ প্রশ্ন তোলেন—বর্তমান বাস্তবতায় দলটির অবস্থান কী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। অতীতের রাজনৈতিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে অলি আহমদ বলেন, দেশের শাসনব্যবস্থায় নীতি ও আদর্শের বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়া উচিত।
দেশ পরিচালনায় সৎ ও নীতিবান ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এলডিপি সভাপতি বলেন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও স্বার্থান্বেষী রাজনীতির মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা করা সম্ভব নয়। তাঁর মতে, যোগ্য ও সৎ ব্যক্তিদের দায়িত্ব দিলে দেশের প্রশাসন ও শাসনব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
১১ দলীয় জোটের কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি বলেন, জনগণের দাবিগুলো সরকারকে বিবেচনায় নিতে হবে। দাবি মেনে না নেওয়া হলে নিয়মতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে চাপ তৈরি করা হবে বলেও জানান তিনি।
লং মার্চে অংশ নেওয়া সবাইকে শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান অলি আহমদ। তিনি বলেন, তাদের কর্মসূচির উদ্দেশ্য বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা নয়; বরং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে সংগঠিতভাবে আন্দোলন করা।
তবে কর্মসূচির পথে কেউ বাধা সৃষ্টি করলে তা প্রতিহত করার কথাও বলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, লং মার্চ শান্তিপূর্ণ থাকবে, কিন্তু বাধা এলে আন্দোলনকারীরা তা মোকাবিলা করবে।
সবশেষে অলি আহমদ বলেন, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য কোনো আনন্দ আয়োজন নয়; জনগণের অধিকার ও দাবি আদায়ের জন্যই তারা মাঠে নেমেছেন। নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে এসব দাবি প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

