রাজধানীর বাজারে কিছু সবজির দাম কমায় ক্রেতারা সাময়িক স্বস্তি পেলেও ডিম, মাছ, মুরগি, আটা ও চিনিসহ বেশ কয়েকটি নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম অব্যাহত রয়েছে। এর সঙ্গে নতুন করে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা বাড়ায় সাধারণ মানুষের ব্যয়ের চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, বাড্ডা ও মহাখালী এলাকার বাজার ঘুরে পণ্যের দামে এমন চিত্র দেখা গেছে।
ব্যবসায়ীদের মতে, একসঙ্গে বেশ কয়েকটি নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারওয়ান বাজারের মুদি ব্যবসায়ী হাসান তালুকদার জানান, ভোজ্যতেল, আটা-ময়দা, চিনি, ডাল, গুঁড়া দুধ, সাবান ও ওয়াশিং পাউডারসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাসের সংকটের কারণে বিভিন্ন শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে আটা, ময়দা, চিনি ও ভোজ্যতেলের মতো পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থায়। ফলে এসব পণ্যের দামেও চাপ তৈরি হয়েছে।
ডিম ও আটার দামেও স্বস্তি নেই
রাজধানীর বাজারে প্রতি ডজন ডিম এখনো প্রায় ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ডিমের দাম এই পর্যায়ে রয়েছে। এর আগে একই পরিমাণ ডিম ১৩০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে পাওয়া যেত।
আটার দামও আগের তুলনায় বেড়েছে। বর্তমানে দুই কেজির প্যাকেটজাত আটা ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ আগেও এর দাম ছিল প্রায় ১২০ টাকা। খোলা আটার কেজিও ৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ টাকা হয়েছে।
মাছ ও মুরগির বাজারে বাড়তি দাম
মাছের বাজারেও কমেনি দাম। চলতি সপ্তাহে তেলাপিয়া প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা এবং রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ির দাম প্রজাতি ও মানভেদে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত।
ইলিশের দামও রয়েছে বেশ চড়া। ৯০০ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২৫০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা কেজি দরে। ফলে সীমিত আয়ের অনেক পরিবার মাছ কেনার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে।
মুরগির বাজারেও একই চিত্র। ব্রয়লার প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাড্ডার মাছ ব্যবসায়ী আবির ইসলাম বলেন, বিভিন্ন কারণে বাজারে মাছের সরবরাহ কমেছে। এর ফলে কেজিপ্রতি মাছের দাম প্রায় ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। শিগগিরই দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমার সম্ভাবনা কম বলেও জানান তিনি।
কমেছে বেশিরভাগ সবজির দাম
অন্যদিকে সরবরাহ বাড়ায় সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। বর্তমানে বেশিরভাগ সবজি ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। এক মাস আগে সরবরাহ কম থাকায় অনেক সবজির দাম কেজিতে ১০০ টাকার ওপরে উঠে গিয়েছিল।
বর্তমানে পটোল ও ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ও ধুন্দল ৬০ টাকা, শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, করলা ৮০ টাকা এবং বরবটি ও ঝিঙা ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে পাওয়া যাচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়।
এ ছাড়া কচুর লতি ৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৬০ টাকা, বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, টমেটো ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
লাউ প্রতি পিস ৬০ থেকে ৮০ টাকা, চালকুমড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং কাঁচকলা প্রতি হালি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে পেঁয়াজ ও আলুর দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি। মানভেদে পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকা এবং আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মহাখালী বাজারে কেনাকাটা করতে আসা মধুবাগের বাসিন্দা সামিয়া জাহান বলেন, সবজির দাম কিছুটা কমলেও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সংসারের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ডিম ও মাছের বাড়তি দাম সাধারণ ক্রেতাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
সব মিলিয়ে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও ডিম, মাছ ও মুরগির উচ্চমূল্য এবং তেলসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় স্বস্তি ফেরেনি পুরো বাজারে। ক্রেতাদের দাবি, পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং দাম নিয়ন্ত্রণে বাজার তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
