ভারত কখনো সামরিক শক্তি বা আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে বিশ্বে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেনি; বরং মানুষের প্রতি ভালোবাসা, নিঃস্বার্থ সেবা ও সহমর্মিতার কারণেই দেশটি ‘বিশ্বগুরু’র মর্যাদা পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত।
রোববার (৩০ আগস্ট) কানাডার টরন্টোতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি ভারতের ঐতিহাসিক সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
ভাগবতের ভাষ্য, বিপদের সময় অন্যদের পাশে দাঁড়ানো এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের প্রতি সম্মান দেখানো ভারতের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের অংশ। তার দাবি, বিভিন্ন সময়ে বিশ্বের সংকটে পড়া মানুষ ভারতের কাছ থেকে সহযোগিতা ও আশ্রয় পেয়েছে।
ভারতের ইতিহাসের একটি উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পোল্যান্ডের বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হলে জামনগরের তৎকালীন রাজা তাদের ভারতে আশ্রয় দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ের একটি ঘটনার উল্লেখ করে ভাগবত জানান, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের সময় ভারতীয় উদ্ধারকারী বিমান শুধু ভারতীয় নাগরিকদের নয়, আরও কয়েকটি দেশের মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছিল।
তিনি বলেন, অতীতেও বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে নির্যাতন ও সংকটের শিকার মানুষ ভারতের মাটিতে আশ্রয় পেয়েছে। তার মতে, এ ধরনের মানবিক ভূমিকা ভারতের সংস্কৃতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
ভারতের বৈশ্বিক ভূমিকা প্রসঙ্গে আরএসএস প্রধান বলেন, ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে ভারতীয়রা বিশ্বের নানা অঞ্চলে গেছেন। তবে অন্য দেশের ভূখণ্ড দখল বা সামরিক আগ্রাসনের মাধ্যমে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা তাদের উদ্দেশ্য ছিল না। বরং জ্ঞান, বিজ্ঞান, চিকিৎসা ও জীবনযাপনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারতের অবদান বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ভারতের বৈচিত্র্যের বিষয়টিও বক্তব্যে তুলে ধরেন ভাগবত। তার মতে, দেশটিতে বিভিন্ন ভাষা, ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের সহাবস্থান রয়েছে এবং এই বৈচিত্র্যই ভারতের অন্যতম শক্তি।
হিন্দু দর্শনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পৃথিবীর সব মানুষকে একটি পরিবারের অংশ হিসেবে দেখার ধারণা এই দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। একই সঙ্গে বিদ্বেষ ও সহিংসতার পরিবর্তে মানবসেবা এবং পারস্পরিক সহমর্মিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
ভাগবতের এই বক্তব্যে ভারতের ঐতিহাসিক ভূমিকা, মানবিক মূল্যবোধ ও বৈশ্বিক নেতৃত্বের ধারণাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
