বাংলাদেশের বিপক্ষে হারের ধাক্কা সামলে এবার জিম্বাবুয়ে ও দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের দিকে তাকাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের কারণে প্রতিটি ম্যাচকেই গুরুত্ব দিয়ে দেখছে দলটি। এরই অংশ হিসেবে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজের জন্য বেশ শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচকেরা।
তবে ঘোষিত দলে জায়গা হয়নি মার্নাস লাবুশেনের। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজেও প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেননি তিনি। এর আগে থেকেই তাঁর ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। এবার জিম্বাবুয়ে ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে দল থেকেও বাদ পড়লেন এই ব্যাটার।
২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্য ছিলেন লাবুশেন। কিন্তু সাম্প্রতিক ব্যাটিং ফর্মের কারণে সীমিত ওভারের দল থেকে তাঁর বাদ পড়া নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এমনকি টেস্ট দলেও তাঁর জায়গা এখন নিশ্চিত নয় বলে মনে করা হচ্ছে।
দলে নতুন মুখ তিনজন
আগামী বিশ্বকাপকে সামনে রেখে অস্ট্রেলিয়া দলে তরুণ ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন ১৯ বছর বয়সী ব্যাটার অলি পিক এবং দুই তরুণ অলরাউন্ডার জো ডেভিস ও কুপার কনোলি।
ডেভিসের বয়স ২২ বছর এবং কনোলির ২৩। জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় এই তরুণদের ধীরে ধীরে প্রস্তুত করতে চাইছে নির্বাচকেরা।
ফিরেছেন একাধিক অভিজ্ঞ ক্রিকেটার
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে সাম্প্রতিক ওয়ানডে সিরিজে দলে ছিলেন না মিচেল মার্শ, ট্রাভিস হেড ও জশ হ্যাজলউড। আসন্ন সিরিজে এই তিন গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার আবারও স্কোয়াডে ফিরেছেন।
তবে প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্ককে পুরো সফরে রাখা হয়নি। তাদের কাজের চাপ ও শারীরিক প্রস্তুতির বিষয়টি বিবেচনা করে দক্ষিণ আফ্রিকার সিরিজে শুধু তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পেস আক্রমণে একাধিক বিকল্প
অস্ট্রেলিয়ার ১৭ সদস্যের ওয়ানডে স্কোয়াডে পেস বোলিংয়ের জন্য বেশ কয়েকজনকে রাখা হয়েছে। স্পেন্সার জনসন, নাথান এলিস, জেভিয়ার বার্টলেট এবং বিলি স্ট্যানলেকের মতো পেসাররা দলে রয়েছেন।
স্পিন বিভাগে একমাত্র বিশেষজ্ঞ হিসেবে জায়গা পেয়েছেন অ্যাডাম জাম্পা। অন্যদিকে ম্যাথু কুনেমানকে এবার স্কোয়াডে রাখা হয়নি।
জিম্বাবুয়ে ও দক্ষিণ আফ্রিকা সফর
চলতি মাসে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে খেলবে অস্ট্রেলিয়া। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে আরও তিনটি ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে দুই দল।
ওয়ানডে সিরিজের পর অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। ডারবান, গেবেখা ও কেপটাউনে হবে টেস্টগুলো। টেস্ট সিরিজের জন্য অস্ট্রেলিয়ার স্কোয়াড পরবর্তী সময়ে ঘোষণা করা হবে।
লাবুশেনের জায়গায় চাপ বাড়ছে
লাবুশেনের টেস্ট দলে জায়গা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় পিটার হ্যান্ডসকম্ব ও নাথান ম্যাকসুইনির সামনে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে ভারতের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সফরের আগে নিজেদের প্রস্তুত করার জন্য এই সময়টিকে কাজে লাগাতে চাইবেন তাঁরা।
পেস বিভাগেও থাকছে বাড়তি গতি। ব্রেন্ডন ডগেট ও জাই রিচার্ডসনের মতো দ্রুতগতির বোলাররা দলে থাকায় অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণে আরও বৈচিত্র্য আসতে পারে।
এদিকে মাসের শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দল ভারত সফরে যাবে। সেখানে ভারত ‘এ’ দলের বিপক্ষে দুটি চার দিনের ম্যাচ এবং তিনটি ওয়ানডে খেলার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশের বিপক্ষে হারের পর অস্ট্রেলিয়ার সামনে এখন নিজেদের শক্তি ও ধারাবাহিকতা প্রমাণের সুযোগ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ থেকেই সেই ঘুরে দাঁড়ানোর যাত্রা শুরু করতে চাইবে তারা।
