সাতক্ষীরায় এবার ব্যতিক্রমী আয়োজন নিয়ে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি চলছে। মাটির প্রতিমাকে সাজাতে ব্যবহার করা হচ্ছে প্রচলিত উপকরণের বাইরে দেড় লাখেরও বেশি দেশলাই কাঠি এবং ১০ কেজির বেশি রেশমি সুতা। এসব উপকরণ দিয়েই তৈরি হচ্ছে দেবী দুর্গার পোশাক ও অলংকারের নকশা।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের ব্রহ্মরাজপুর সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গাপূজা মন্দিরে চলছে এই বিশেষ প্রতিমা তৈরির কাজ। প্রতিমার গায়ে সারি সারি দেশলাই কাঠি বসিয়ে তৈরি করা হচ্ছে নানা ধরনের নকশা। পাশাপাশি কাঠির সঙ্গে রেশমি সুতা জুড়ে পোশাকে আনা হচ্ছে ভিন্নধর্মী সৌন্দর্য।

দূর থেকে দেখলে দেশলাই কাঠির ব্যবহার সহজে বোঝার উপায় নেই। পোশাকের ভাঁজ, অলংকার ও বিভিন্ন নকশা এত নিখুঁতভাবে তৈরি করা হচ্ছে যে কাছে না গেলে পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হয় না।

প্রতিমাশিল্পীরা জানান, কাঠিগুলো নির্দিষ্ট মাপ ও বিন্যাসে বসাতে হচ্ছে। সামান্য ভুল হলেই নকশার সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ফলে প্রতিটি কাঠি বসানোর কাজ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে করতে হচ্ছে।

এই কাজের সঙ্গে যুক্ত প্রতিমাশিল্পী নবদ্বীপ সরকার জানান, কয়েক বছর আগে ভারতে একটি মন্দিরে গিয়ে দেশলাই কাঠি দিয়ে তৈরি শিল্পকর্ম দেখেছিলেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার সাতক্ষীরায় এমন একটি ব্যতিক্রমী প্রতিমা তৈরির পরিকল্পনা করেন। পূজার সময় ঘনিয়ে আসায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে শিল্পীদের দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে হচ্ছে। অনেক সময় গভীর রাত পর্যন্তও কাজ চালাতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিমা তৈরিতে প্রয়োজন হচ্ছে ১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি দেশলাই কাঠি। এর সঙ্গে ব্যবহার করা হচ্ছে ১০ কেজির বেশি রেশমি সুতা। শুধু প্রতিমা নির্মাণে নিয়োজিত শিল্পীদের পারিশ্রমিক বাবদ খরচ হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। পূজার অন্যান্য আয়োজনসহ এবার মোট ব্যয় প্রায় ৫ লাখ টাকা হতে পারে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।

ব্রহ্মরাজপুরের পূজায় নতুন ধরনের প্রতিমা তৈরির উদ্যোগ অবশ্য এবারই প্রথম নয়। এর আগে গত বছর প্রায় ১০০ কেজি চিনিগুঁড়া ধান ব্যবহার করে দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করা হয়েছিল। সেই আয়োজন দেখতে স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকেও দর্শনার্থীরা এসেছিলেন।

গত বছরের সাড়া থেকেই এবার আরও নতুন কিছু করার পরিকল্পনা নেয় পূজা উদ্‌যাপন কমিটি। কমিটির উপদেষ্টা কানাইলাল জানান, আগের বছরের আয়োজনের পর থেকেই এবার ভিন্নধর্মী উপকরণ দিয়ে প্রতিমা তৈরির চিন্তা ছিল। সেই ভাবনা থেকেই দেশলাই কাঠি ও রেশমি সুতা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রতিমা তৈরির কাজ দেখতে প্রতিদিনই মন্দিরে ভিড় করছেন স্থানীয় মানুষ। তাদের মধ্যে কল্পনা রানী নামের এক দর্শনার্থী বলেন, গত বছরের মতো এবারও ব্যতিক্রমী এই প্রতিমা মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে বলে তিনি মনে করেন।

সাতক্ষীরা জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ ঘোষও উদ্যোগটির প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, দেশলাই কাঠি ও রেশমি সুতা ব্যবহার করে দেবীর পোশাক ও অলংকারে যে নান্দনিকতা তৈরি করা হচ্ছে, তা দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করবে। তাঁর আশা, সাতক্ষীরার বাইরের বিভিন্ন এলাকা থেকেও মানুষ এবার এই প্রতিমা দেখতে আসবেন।

ব্যতিক্রমী উপকরণে তৈরি এই দুর্গাপ্রতিমাকে ঘিরে ইতোমধ্যেই স্থানীয়দের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। পূজা শুরু হলে দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে ব্রহ্মরাজপুরের এই আয়োজন আরও জমজমাট হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version