উজবেকিস্তানের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত হয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে থাকা মোদির হাতে দেশটির প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়োয়েভ ‘অর্ডার অব ওলি দারাজালি দোস্তলিক’ পুরস্কার তুলে দেন। বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও নেতাদের জন্য এটিই উজবেকিস্তানের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান হিসেবে বিবেচিত।
মোদিকে এই পুরস্কার দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ভারতের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে আলোচনা। বিশেষ করে অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বিজেপিকে লক্ষ্য করে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছেন।
পুরস্কারের প্রসঙ্গ টেনে ওয়াইসি উজবেকিস্তানের ফারগানা উপত্যকার ইতিহাসের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যে অঞ্চলকে মুঘল সম্রাট বাবরের জন্মভূমি হিসেবে উল্লেখ করা হয়, সেই উজবেকিস্তান থেকেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী সম্মাননা পেয়েছেন।
ওয়াইসির মন্তব্য, ‘আমি বিজেপিকে অভিনন্দন জানাই। যে দেশ থেকে বাবর ভারতে এসেছিলেন, সেই দেশই এখন ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে সম্মানিত করেছে।’
এরপর বিজেপি ও সংঘ পরিবারের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে যে দেশেই সফরে যাচ্ছেন, সেখান থেকেই কোনো না কোনো সম্মাননা নিয়ে ফিরছেন।
বাবরকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও সংঘ পরিবারের অতীত রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গও সামনে আনেন এআইএমআইএম নেতা। তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে বাবরের নাম ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া হলেও এখন সেই ঐতিহাসিক ভূখণ্ডের দেশই ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় সম্মান দিয়েছে।
ওয়াইসি আরও বলেন, বিজেপি ও আরএসএসের সমর্থকদের এ বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবা প্রয়োজন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, বাবরকে নিয়ে অতীতে যে ধরনের বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, উজবেকিস্তানের এই সম্মাননা সেই রাজনৈতিক বিতর্ককে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।
উজবেকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারত ও উজবেকিস্তানের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে মোদির অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
সম্মাননা গ্রহণের পর নরেন্দ্র মোদি পুরস্কারটি দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের প্রতি উৎসর্গ করেন।
মোদির এই রাষ্ট্রীয় সম্মান এবং ওয়াইসির মন্তব্যকে ঘিরে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে মুঘল ইতিহাস, বাবর এবং বিজেপি-আরএসএসের ঐতিহাসিক বয়ান নিয়ে পুরোনো বিতর্ক আবারও আলোচনায় এসেছে।
