ঢাকা: নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের মধ্যে অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস এবং ‘শিকার’ সিনেমার পুরো শুটিং ইউনিট। দেশে ফিরে সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন তিনি।

নেপালের বিভিন্ন অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৬১৬ জনে পৌঁছেছে। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এখনো প্রায় ১ হাজার ৯২৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় বহু বিদেশি পর্যটকেরও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

‘শিকার’ সিনেমার শুটিংয়ের কাজে সম্প্রতি নেপালে অবস্থান করছিলেন অপু বিশ্বাস। শুটিং চলছিল পর্যটন নগরী পোখারায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২৬ আগস্ট একটি পাহাড়ি সড়ক দিয়ে কাঠমান্ডু যাওয়ার কথা ছিল ইউনিটের সদস্যদের। কিন্তু যাত্রার সময়সূচি পরিবর্তন হয়ে ২৭ আগস্ট নির্ধারিত হওয়ায় বড় ধরনের বিপদ এড়াতে সক্ষম হন তারা।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে ঢাকায় ফিরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অপু বিশ্বাস বলেন, “যে পাহাড়ি সড়ক দিয়ে আমাদের কাঠমান্ডু যাওয়ার কথা ছিল, ঠিক সেই এলাকাতেই ভয়াবহ দুর্যোগ ঘটে। এক দিনের ব্যবধান আমাদের একটি বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করেছে।”

তিনি জানান, দুর্যোগের খবর পাওয়ার পর শুটিং কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। এমন পরিস্থিতিতে মানুষের দুর্ভোগের মধ্যে ক্যামেরা চালিয়ে যাওয়াকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমর্থন করা যায় না বলেই মনে হয়েছে তাঁর।

অপু বিশ্বাস বলেন, “এমন ভয়াবহ অবস্থায় মানুষ যখন জীবন বাঁচানোর জন্য সংগ্রাম করছে, তখন গানের শুটিং বা বিনোদনমূলক কাজ চালিয়ে যাওয়া অমানবিক মনে হয়েছে। তাই পুরো টিমের সঙ্গে আলোচনা করে শুটিং স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।”

অভিনেত্রী জানান, নেপালের দুর্গত এলাকাগুলোতে বহু মানুষ স্বজন হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের কান্না ও অসহায়ত্বের দৃশ্য এখনো তাঁকে নাড়া দিচ্ছে।

তিনি বলেন, “নেপালে মানুষের যে আহাজারি দেখেছি, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। অনেক মানুষ এখনো তাদের স্বজনদের খুঁজে ফিরছেন। সেই দৃশ্য ভোলার মতো নয়।”

অপু বিশ্বাস আরও জানান, দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ি সড়কগুলোতে অন্তত ১৫ থেকে ২০ দিন যান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ফলে ‘শিকার’ সিনেমার বাকি অংশের শুটিং আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করবেন নির্মাতা ও প্রযোজকরা।

নেপালের ভয়াবহ দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে অপু বিশ্বাস বলেন, “আমরা নিরাপদে ফিরতে পেরেছি, এজন্য কৃতজ্ঞ। কিন্তু যারা স্বজন হারিয়েছেন কিংবা এখনো নিখোঁজ প্রিয়জনের অপেক্ষায় আছেন, তাদের কষ্ট সত্যিই হৃদয়বিদারক।”

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version