রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর ভনুকোভো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হঠাৎ করে অবতরণ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক পরিবহন বিমান। বিশাল আকৃতির বোয়িং সি-১৭ গ্লোবমাস্টার-৩ মস্কোতে পৌঁছানোর পরই ঘটনাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। তবে বিমানটি কেন মস্কোতে এসেছে, সে বিষয়ে রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিনের কাছে তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য নেই বলে জানানো হয়েছে।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৭টার দিকে মার্কিন সামরিক বিমানটি মস্কোয় অবতরণ করে। বিমানটির মার্কিন টেইল নম্বর ছিল ‘০৭-৭১৮১’। এর আগে এটি লাটভিয়ার রাজধানী রিগা থেকে সরাসরি মস্কোর উদ্দেশে যাত্রা করে।

ট্র্যাকিং তথ্য বিশ্লেষণে আরও জানা যায়, বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির কাছাকাছি ক্যাম্প স্প্রিংস সামরিক ঘাঁটি থেকে যাত্রা করে প্রথমে রিগায় পৌঁছেছিল। সেখান থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই মস্কোর দিকে উড়ে যায় বিমানটি।

তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বিমানটির মস্কো সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে। এতে কোনো সামরিক সরঞ্জাম, গুরুত্বপূর্ণ নথি কিংবা যাত্রী ছিল কি না—এ বিষয়ে এখনো নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশ হয়নি। ফলে বিমানটির আকস্মিক উপস্থিতি ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা।

বিষয়টি নিয়ে রাশিয়ার সরকারি বাসভবন ক্রেমলিনের অবস্থানও বেশ রহস্যজনক। মস্কোয় মার্কিন সামরিক বিমান অবতরণের বিষয়ে তাদের কাছে তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানটি ঠিক কী উদ্দেশ্যে রাশিয়ার রাজধানীতে এসেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

চলতি বছরে ইউরোপ থেকে সরাসরি রাশিয়ায় কোনো মার্কিন নিবন্ধিত বিমানের এটি দ্বিতীয় সফর বলে ফ্লাইট তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে। এর আগে জানুয়ারিতে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে মার্কিন বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভেন উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার মস্কো সফর করেছিলেন। তারা রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বর্তমানে ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে শান্তি আলোচনা অনেকটাই ধীরগতির। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে সংঘাত ও পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও এই আলোচনার ওপর প্রভাব ফেলছে। এর মধ্যেই গত সপ্তাহে ক্রেমলিন জানিয়েছিল, কুশনার ও উইটকফের নতুন কোনো মস্কো সফর নির্ধারিত নেই।

তাই কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই মস্কোয় একটি মার্কিন সামরিক পরিবহন বিমানের অবতরণ নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এটি কূটনৈতিক কোনো যোগাযোগের অংশ, নাকি অন্য কোনো বিশেষ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত—এখন সেই উত্তরই খুঁজছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে এখন পর্যন্ত বিমানটির মস্কো সফরের প্রকৃত কারণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা রাশিয়ার পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version