শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে মেটা কর্তৃপক্ষের অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক নিরাপত্তা প্রকৌশলী ও হুইসেলব্লোয়ার আরতুরো বেজার। বৃহস্পতিবার আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে তার এই বক্তব্যের কথা জানানো হয়েছে।
মেটার বিরুদ্ধে চলমান একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে বেজার অভিযোগ করেন, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে শিশুদের ক্ষতির ঝুঁকি সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানটি আগে থেকেই অবগত ছিল। বিশেষ করে যৌন নিপীড়ন, সহিংসতা ও অন্যান্য আপত্তিকর কনটেন্ট শিশুদের কাছে সুপারিশ করার বিষয়টি তিনি তুলে ধরেন।
বেজারের দাবি, এসব সমস্যার বিষয়ে তিনি মেটার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একাধিকবার অবহিত করেছিলেন। এমনকি মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গকেও পণ্যের নিরাপত্তাজনিত ত্রুটির বিষয়ে বহুবার জানানো হয়েছিল।
২০২১ সালে জাকারবার্গ প্রকাশ্যে দাবি করেছিলেন, ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার চেয়ে মুনাফাকে অগ্রাধিকার দেয় না মেটা। তবে বেজারের বক্তব্য অনুযায়ী, পরে ই-মেইলের মাধ্যমে তিনি জাকারবার্গকে ক্ষতিকর কনটেন্টের বিষয়টি আবারও জানান এবং ওই বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ২৯টি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলদের করা মামলায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে আদালতে হাজির হন বেজার। মামলায় মেটার বিরুদ্ধে শিশুদের লক্ষ্য করে আসক্তিকর ডিজাইন তৈরি এবং অভিভাবকদের অনুমতি ছাড়াই ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ আনা হয়েছে।
২০২৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কেনটাকি ও নিউ জার্সিসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য যৌথভাবে মামলাটি দায়ের করে। ক্যালিফোর্নিয়ার ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মেগান ও’নিলের অভিযোগ, শিশুদের সুরক্ষায় নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেনি মেটা।
ছয় সপ্তাহ ধরে চলা এই মামলায় পরবর্তী সময়ে মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ এবং ইনস্টাগ্রামের প্রধান অ্যাডাম মোসেরির সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে। মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন বিচারক ইভন গঞ্জালেজ রজার্স।
অবশ্য মেটা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবী পল শমিট আদালতকে জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় মেটা বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে। তার দাবি, ১৩ বছরের কম বয়সী এক মিলিয়নেরও বেশি অ্যাকাউন্ট ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
