ইউক্রেন সীমান্তের কাছে রোমানিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করা একটি ড্রোনকে গুলি করে ধ্বংস করেছে ন্যাটোর টহল মিশনে থাকা একটি স্প্যানিশ এফ-১৮ যুদ্ধবিমান। রোববার ভোরের এই ঘটনায় চলতি বছরে রোমানিয়ার আকাশসীমায় ভূপাতিত ড্রোনের সংখ্যা দাঁড়াল চারটিতে।
রোমানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন ও মলদোভা সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় ড্রোনটি শনাক্ত করা হয়। পরে ন্যাটোর এয়ার-প্যাট্রোল মিশনে থাকা স্প্যানিশ এফ-১৮ সেটিকে লক্ষ্য করে অভিযান চালায়। ড্রোনটি ধ্বংস হওয়ার পর এর ধ্বংসাবশেষ ইউক্রেন সীমান্তসংলগ্ন গালাতি অঞ্চলের একটি জনবসতিহীন এলাকায় পড়ে।
ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে স্পেনের সামরিক বাহিনীর সদস্যরা রোমানিয়ায় দায়িত্ব পালন করছেন। আকাশসীমা পর্যবেক্ষণ ও সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় তাদের যুদ্ধবিমান নিয়মিত টহল পরিচালনা করে।
রোমানিয়ার আকাশসীমায় ড্রোন অনুপ্রবেশের ঘটনা নতুন নয়। ইউক্রেনের সঙ্গে দেশটির দীর্ঘ সীমান্ত থাকায় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব দেশটির পূর্বাঞ্চলে বারবার অনুভূত হচ্ছে। এর আগে পোল্যান্ড এবং বাল্টিক অঞ্চলের কয়েকটি ন্যাটো সদস্য দেশেও অনুরূপ আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।
সম্প্রতি লাটভিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করা একটি ড্রোনও ন্যাটোর পক্ষ থেকে ভূপাতিত করা হয়। এর আগে জুন মাসেও লাটভিয়ায় একই ধরনের একটি ঘটনার খবর পাওয়া যায়।
২০২৩ সাল থেকেই রোমানিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে ড্রোন ও ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ইউক্রেনের দানিউব নদী তীরবর্তী ইজমাইল ও রেনি বন্দরে রুশ হামলার সময় ধ্বংস হওয়া বিভিন্ন ড্রোনের অংশ রোমানিয়ার ভূখণ্ডে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে।
নতুন এই ঘটনাটি আবারও দেখিয়ে দিল, ইউক্রেনের যুদ্ধ শুধু দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। সংঘাতের প্রভাব ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর আকাশসীমাতেও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করছে, যা পূর্ব ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলছে।

