মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল দুটির কার্যক্রম আবারও সচল হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে বর্তমানে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সরবরাহ আরও বাড়লে চলমান গ্যাস সংকট কিছুটা কমতে পারে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকালে সামিটের টার্মিনাল থেকে প্রায় ৪৬০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং এক্সিলারেট এনার্জি থেকে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়েছে। দেশীয় উৎসের গ্যাস মিলিয়ে মোট সরবরাহ প্রায় ২ হাজার ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছেছে।
এর আগে শুক্রবার বিকেলে কারিগরি ত্রুটির কারণে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রভাবে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ কমে প্রায় ১ হাজার ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের দিকে সামিটের টার্মিনাল থেকে পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। প্রথম দিকে সরবরাহের পরিমাণ ছিল প্রায় ১১০ মিলিয়ন ঘনফুট। পরে রাতের দিকে ধাপে ধাপে এর পরিমাণ বাড়ানো হয়।
একই রাতে এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকেও আবার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে প্রবেশ করতে শুরু করে। বর্তমানে এই টার্মিনাল থেকে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে। দুই টার্মিনাল মিলিয়ে এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে আনুমানিক ৭৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।
বাংলাদেশে প্রতিদিন গ্যাসের প্রয়োজন প্রায় ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে দেশের মোট সরবরাহ ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুটের মধ্যে থাকে। এর মধ্যে এলএনজি থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ১ হাজার ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব।
তাই বর্তমান সরবরাহ বাড়লেও চাহিদার তুলনায় ঘাটতি পুরোপুরি কাটেনি।
মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি জাতীয় গ্যাস গ্রিডে যুক্ত করার জন্য দুটি ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট বা এফএসআরইউ রয়েছে। এর মধ্যে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের দৈনিক সক্ষমতা প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং সামিটের সক্ষমতা প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট।
এর আগে ২১ জুলাইয়ের একটি অগ্নিকাণ্ডে এক্সিলারেটের টার্মিনালের একটি বয়লার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়েছিল। পরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এমন বয়লার ব্যবহার করে ৬ আগস্ট সীমিত পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ আবার শুরু করা হয়। কিন্তু শুক্রবার নতুন করে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে সেই সরবরাহও সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
মেরামত শেষে রাতে আবার এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ চালু করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, দুটি টার্মিনালই তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় চালু না হওয়া পর্যন্ত দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে না।

