জনপ্রিয় মার্কিন রিয়েলিটি টিভি তারকা টাইলার ডাকওয়ার্থ আর নেই। এমটিভির আলোচিত অনুষ্ঠান ‘দ্য চ্যালেঞ্জ’-এর পরিচিত মুখ ও বিজয়ী এই তারকার মৃত্যু হয়েছে ৪৪ বছর বয়সে।

বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেলের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন টাইলারের মা জনি। তবে তার মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার ১১ আগস্ট। স্থানীয় সময় সকাল পৌনে ১২টার দিকে টাইলারের নিচতলার প্রতিবেশীরা তাদের বাসার ছাদ থেকে পানি পড়ার বিষয়টি পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ড ফর্কস পুলিশ ডিপার্টমেন্ট টাইলারের বাসায় যায়।

পুলিশ সেখানে গিয়ে অ্যাপার্টমেন্টের বাথরুমের ভেতর টাইলারকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। প্রাথমিক তদন্তে তার মৃত্যুর সঙ্গে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র বা সন্দেহজনক আলামত পাওয়া যায়নি।

তবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত এবং টক্সিকোলজি পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ছেলের মৃত্যুর খবর জানিয়ে টাইলারের মা বলেন, তার সন্তান মারা গেছেন, কিন্তু মৃত্যুর কারণ এখনো জানা যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানানো হবে বলেও তিনি জানান।

টাইলারের আকস্মিক মৃত্যুতে তার ভক্ত ও সহকর্মীদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে তার প্রাণবন্ত স্বভাব, প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা এবং টেলিভিশনে তার স্মরণীয় সময়ের কথা তুলে ধরে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

কে ছিলেন টাইলার ডাকওয়ার্থ?

টাইলার ডাকওয়ার্থ ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় রিয়েলিটি টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব। এমটিভির ‘দ্য রিয়েল ওয়ার্ল্ড: কি ওয়েস্ট’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের নজরে আসেন।

এরপর ‘দ্য চ্যালেঞ্জ’ সিরিজে অংশ নিয়ে তার জনপ্রিয়তা আরও বাড়ে। ফ্র্যাঞ্চাইজিটির একাধিক মৌসুমে প্রতিযোগিতা করেছেন তিনি। এর মধ্যে ‘দ্য ডুয়েল’, ‘দ্য গন্টলেট ৩’, ‘কাটথ্রোট’, ‘রাইভালস’, ‘অল স্টারস ২’ এবং ‘অল স্টারস ৩’ উল্লেখযোগ্য।

শারীরিক সক্ষমতা, প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা এবং বিভিন্ন চ্যালেঞ্জে পারফরম্যান্সের কারণে অনুষ্ঠানটির দর্শকদের কাছে টাইলার ছিলেন পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ। ‘দ্য চ্যালেঞ্জ’-এ শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে তিনি নিজের জায়গাটিও আরও শক্ত করেন।

মাত্র ৪৪ বছর বয়সে তার আকস্মিক মৃত্যু তাই ভক্তদের জন্য বড় এক ধাক্কা হয়ে এসেছে। এখন তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত ও পরীক্ষার ফলাফলের দিকেই নজর রয়েছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version