সরকারি নীতি প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে নির্ভুল তথ্যের গুরুত্ব তুলে ধরে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান সরকার তথ্য নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি করতে চায় না। সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হলো জনগণের সামনে নির্ভরযোগ্য ও স্বচ্ছ তথ্য তুলে ধরা।
বুধবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী জাতীয় সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ‘নেভিগেটিং ফাইভ ইয়ার স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্ক ফর অ্যাচিভিং এসডিজিস: পলিসি, পার্টনারশিপ অ্যান্ড প্রায়োরিটিজ’ শীর্ষক সম্মেলনে দেশের পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতে সরকারি পরিসংখ্যান নিয়ে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার অভিযোগ থাকলেও বর্তমান সরকারের সময়ে এমন পরিস্থিতির সুযোগ রাখা হবে না। নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকার যেন বাস্তব ও সঠিক চিত্র পায়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্ভুল তথ্য সরবরাহের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সঠিক তথ্য ছাড়া কোনো সরকারই কার্যকরভাবে নীতি তৈরি করতে পারে না। তাই পরিসংখ্যান ও বিভিন্ন অর্থনৈতিক সূচকের তথ্য প্রকাশের আগে সেগুলো যথাযথভাবে যাচাই করা হচ্ছে।
মূল্যস্ফীতির সর্বশেষ তথ্য প্রসঙ্গে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যান একাধিকবার পর্যালোচনা করা হয়েছে। চাল ও মাংসের দামসহ বিভিন্ন পণ্যের মূল্য পরিবর্তনের তথ্যও যাচাই করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তার ভাষ্য, মূল্যস্ফীতির নতুন পরিসংখ্যান প্রকাশের আগে একাধিক বৈঠক ও তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। ফলে প্রকাশিত তথ্য যথাসম্ভব নির্ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সরকারের নীতিনির্ধারণে সঠিক পরিসংখ্যানের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, কোনো একটি খাতের প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে ভুল তথ্য থাকলে সেই তথ্যের ভিত্তিতে নেওয়া সিদ্ধান্তও সঠিক নাও হতে পারে। এজন্য তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করা সরকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি বলেন, মূল্যস্ফীতির হিসাব কীভাবে করা হয় এবং এর পেছনে কী ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়, তা নিয়ে ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীও বলেন, মূল্যস্ফীতি পরিমাপের পুরো প্রক্রিয়াটি সংশ্লিষ্টদের সামনে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে সরকারি পরিসংখ্যান কীভাবে তৈরি হয় এবং তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে কী ধরনের যাচাই করা হয়, সে বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
নীতিনির্ধারক, বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন অংশীজনের অংশগ্রহণে তিন দিন ধরে চলা জাতীয় সম্মেলনে বাংলাদেশের পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো এবং এসডিজি বাস্তবায়নের অগ্রাধিকার ও অংশীদারত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বুধবার সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সম্মেলনটি শেষ হয়।

