ক্যাম্পাসে ছাত্রসংগঠনগুলোর প্রতিযোগিতা যেন পেশিশক্তি কিংবা সংঘাতের মাধ্যমে না হয়, বরং মেধা, যোগ্যতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম।
বুধবার (১২ আগস্ট) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানাতে শাখা ছাত্রশিবির এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, কোনো সংগঠনের শক্তি থাকলেই প্রতিটি পরিস্থিতিতে তা প্রদর্শন করতে হবে—এমন নয়। তাঁর দাবি, জুলাইয়ের পর দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্ররাজনীতির ধরনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসা প্রয়োজন। ক্যাম্পাসে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
তিনি বলেন, ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকা স্বাভাবিক। তবে সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা যদি শিক্ষার্থীদের কল্যাণ, একাডেমিক উন্নয়ন এবং ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে হয়, তাহলে তা ক্যাম্পাসের জন্য উপকারী। অন্যদিকে পেশিশক্তি প্রদর্শন বা সংঘাতের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা ছাত্ররাজনীতির পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
সাম্প্রতিক ক্যাম্পাস সহিংসতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শিবির সভাপতি বলেন, বিভিন্ন জায়গায় তাদের নেতাকর্মীরা হামলার শিকার হলেও তারা পাল্টা হামলার পথ বেছে নেয়নি। তবে এর অর্থ এই নয় যে সংগঠনটির কোনো সক্ষমতা বা শক্তি নেই। তাঁর বক্তব্য, সক্ষমতা থাকা আর সবসময় সেই সক্ষমতা প্রদর্শন করা এক বিষয় নয়।
নতুন ধরনের ছাত্ররাজনীতির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, গবেষণা, উচ্চশিক্ষা, ক্যারিয়ার গঠন এবং সামাজিক সচেতনতার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন আবির।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিয়ার রহমান। এ সময় কুমিল্লা মহানগর ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং নবীন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
