নতুন শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির কার্যক্রম আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে শিক্ষার্থীদের অনলাইন আবেদন কবে থেকে শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই আবেদনের সময়সূচি নির্ধারণ হতে পারে।

বুধবার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার জানান, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঠিক করা হয়নি। রোববার বা সোমবারের মধ্যে আবেদন শুরুর সময়সূচি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন, নতুন শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়া ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। ফলে ফল প্রকাশের পর এখন শিক্ষার্থীদের নজর ভর্তি কার্যক্রম শুরুর তারিখের দিকে।

এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার আগের বছরের তুলনায় কমেছে। সার্বিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। এবার মোট ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।

অন্যদিকে দেশের উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আসন রয়েছে শিক্ষার্থীর তুলনায় অনেক বেশি। কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে দেশে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে প্রায় ৯ হাজার ৩১৪টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে মোট আসন প্রায় ২৭ লাখ ৫০ হাজার।

সংশ্লিষ্টদের হিসাব অনুযায়ী, এবার উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় বিপুলসংখ্যক আসন খালি থেকে যেতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ আসনে শিক্ষার্থী পাওয়া নাও যেতে পারে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন কলেজ ও অন্যান্য উচ্চমাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে রয়েছে ৮ হাজার ৭১টি কলেজ ও মাদরাসা। এর সঙ্গে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যুক্ত করলে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা আরও বাড়ে।

এবার সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার হয়েছে ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ। গত বছর এই হার ছিল ৬৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

ফলাফলে এবারও ছাত্রীদের এগিয়ে থাকার চিত্র দেখা গেছে। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে উত্তীর্ণ ছাত্রের তুলনায় ছাত্রী পাস করেছে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৮২ জন বেশি। জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রেও ছাত্রীদের সংখ্যা ছাত্রদের তুলনায় বেশি।

এ বছর সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ১৮ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ১৯ হাজার ৯ জন।

এদিকে পরীক্ষার আয়োজনের ক্ষেত্রেও কিছু পরিবর্তন এসেছে। এবার মোট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ৩০৩টি বেড়েছে। একই সঙ্গে পরীক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যাও বেড়েছে ২০১টি।

সব মিলিয়ে এবার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের জন্য আসনের সংকট হওয়ার সম্ভাবনা কম। বরং পাসের হার কমে যাওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানেই পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী না পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে শিক্ষার্থীদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভর্তি আবেদনের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি। শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এরপরই অনলাইন আবেদন, ফলাফল প্রকাশ এবং চূড়ান্ত ভর্তি-সংক্রান্ত ধাপগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা পাওয়া যাবে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version