ঢাকাই সিনেমার দর্শকদের কাছে সালমান শাহ ও শাবনূর একসময় ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয় জুটি। পর্দায় তাদের অভিনয় ও রসায়ন দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল। তবে সিনেমার বাইরেও তাদের সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের আলোচনা ও গুঞ্জন রয়েছে।

বিশেষ করে সালমান শাহ ও শাবনূরের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল কি না—এই প্রশ্নটি গত কয়েক দশক ধরে আলোচনায় এসেছে বিভিন্ন সময়ে। এবার সেই পুরোনো প্রসঙ্গেই কথা বলেছেন প্রয়াত অভিনেতা সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী।

সম্প্রতি সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় চলমান মামলায় অভিনেতা ডন গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ছেলে ও শাবনূরের সম্পর্ক নিয়েও নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি।

নীলা চৌধুরীর দাবি, সালমান শাহর সঙ্গে শাবনূরের কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সালমান শাবনূরকে নিজের ছোট বোনের মতোই দেখতেন এবং তার প্রতি স্নেহশীল ছিলেন।

তিনি জানান, শাবনূর বিভিন্ন বিষয়ে সালমানের ওপর নির্ভর করতেন। অন্যদিকে সালমানও তাকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করতেন। সালমানের নিজের কোনো বোন না থাকায় শাবনূরের প্রতি তার আলাদা এক ধরনের ভাইসুলভ মমতা তৈরি হয়েছিল বলেও দাবি করেন নীলা চৌধুরী।

তবে শাবনূরকে ঘিরে কিছু অভিযোগও তুলেছেন সালমানের মা। তার দাবি, বিভিন্ন সময় এমন একটি ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছিল যে সালমানের সঙ্গে শাবনূরের বিশেষ কোনো সম্পর্ক রয়েছে। পরবর্তীতে তাদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও গল্প ছড়িয়ে পড়ে।

অবশ্য শাবনূর বরাবরই সালমান শাহর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি অস্বীকার করে এসেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সালমানকে তিনি কখনো প্রেমিক হিসেবে দেখেননি; বরং ভাইয়ের মতোই শ্রদ্ধা ও সম্মান করতেন।

শাবনূরের মতে, তাদের বন্ধুত্ব এবং সিনেমার পর্দায় অসাধারণ রসায়নকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে বিভিন্ন মহলে নানা ধরনের মুখরোচক গল্প তৈরি হয়েছে।

১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় সালমান শাহর। প্রথম সিনেমায় তার নায়িকা ছিলেন মৌসুমী। এরপর ‘তুমি আমার’ সিনেমায় শাবনূরের সঙ্গে জুটি বাঁধেন তিনি।

খুব অল্প সময়ের ক্যারিয়ারে সালমান শাহ অভিনয় করেন ২৭টি সিনেমায়। এর মধ্যে ১৪টি সিনেমায় তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন শাবনূর। ফলে ঢালিউডের অন্যতম আলোচিত জুটি হিসেবে খুব দ্রুত জায়গা করে নেয় সালমান-শাবনূর জুটি।

তাদের একসঙ্গে অভিনীত ‘সুজন সখী’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘বিক্ষোভ’, ‘বিচার হবে’, ‘তোমাকে চাই’ এবং ‘আনন্দ অশ্রু’র মতো সিনেমা দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। তাদের অভিনয় ও পর্দার রসায়ন এখনো বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকদের কাছে স্মরণীয়।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহর মৃত্যুর পর প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেলেও তাকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ কমেনি। তার অভিনয়, ব্যক্তিজীবন, সম্পর্ক এবং মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

আর শাবনূরের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে যে প্রশ্ন বছরের পর বছর ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছে, নীলা চৌধুরীর সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই পুরোনো আলোচনাকেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version