দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় সংসদ ভবনে আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার ১১ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে এ সংক্রান্ত প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতিও এগিয়ে নিচ্ছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। দলটির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ৯ আগস্ট নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এই মনোনয়নপত্র নেওয়া হয়।
বিএনপির সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম। তবে এর পাশাপাশি দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতার নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সামনে এসেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান এবং গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
এছাড়া স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীর নাম নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। জোটের পক্ষ থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি বা এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত অলি আহমদকে প্রার্থী করা হয়েছে।
গত ১০ আগস্ট জোটের একটি প্রতিনিধি দল আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে অলি আহমদের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে।
পরে এক ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানান, নির্বাচনে জয় বা পরাজয় তাদের কাছে প্রধান বিষয় নয়। বরং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করাই তাদের উদ্দেশ্য। গণতান্ত্রিক রাজনীতির স্বাভাবিক চর্চা ফিরিয়ে আনতেই তারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছে বলে জানান তিনি।
নির্বাচন কমিশন গত ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৩ আগস্ট। এরপর ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।
এর আগে গত ২৪ জুলাই দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। তাঁর পদত্যাগের পরই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু করে নির্বাচন কমিশন।
ইতোমধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন।
এখন মূল নজর—শেষ পর্যন্ত বিএনপির দুটি মনোনয়নপত্রের মধ্যে কার নাম সামনে আসে এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদের সঙ্গে নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা কতটা জমে ওঠে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে তাই রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।
