ভারতীয় সংগীতাঙ্গনের জনপ্রিয় শিল্পী লাকি আলী সম্প্রতি একটি কনসার্টে জীবনের অনিত্যতা ও মৃত্যু নিয়ে দেওয়া বক্তব্যে ভক্তদের আবেগাপ্লুত করেছেন। মঞ্চে দাঁড়িয়ে ৬৭ বছর বয়সী এই গায়ক জানান, তিনি মৃত্যুর জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত। এমনকি ভ্রমণের সময় নিজের সঙ্গে ইহরামের কাপড় রাখেন বলেও জানান তিনি।
কনসার্টে দর্শকদের ভালোবাসায় আবেগপ্রবণ হয়ে লাকি আলী জীবনের শেষ পরিণতি নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, পৃথিবীতে প্রত্যেক মানুষকেই একদিন চলে যেতে হবে। তাই মৃত্যু নিয়ে তার নিজের কোনো ভয় নেই। ভ্রমণের সময় তিনি সঙ্গে ইহরাম রাখেন, যা প্রয়োজনে কাফনের কাপড় হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে বলে উল্লেখ করেন এই শিল্পী।
তার বক্তব্যে আরও উঠে আসে মৃত্যুকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করার বিষয়টি। তিনি বলেন, জীবনের শেষ মুহূর্ত যেখানেই আসুক, সেখানেই যেন তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
লাকি আলীর এমন বক্তব্য শুনে কনসার্টে উপস্থিত এক ভক্ত আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। দর্শক সারি থেকে ওই ভক্তকে বলতে শোনা যায়, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে তিনি লাকি আলীর গান ও শিল্পীসত্তার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন এবং কখনো তাকে ছেড়ে যাননি।
পরে কনসার্টের সেই আবেগঘন মুহূর্তের ভিডিও নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেন লাকি আলী। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই প্রিয় শিল্পীর দীর্ঘ জীবন ও সুস্থতা কামনা করেন। কেউ কেউ তার বক্তব্যের আধ্যাত্মিক দিক নিয়েও নিজেদের মতামত জানান।
নব্বইয়ের দশকে স্বাধীন সংগীতধারায় নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেন লাকি আলী। কিংবদন্তি অভিনেতা মেহমুদের সন্তান হলেও প্রচলিত বলিউডি ধারার বাইরে গিয়ে নিজস্ব কণ্ঠ ও গায়কির মাধ্যমে শ্রোতাদের কাছে আলাদা জায়গা করে নেন তিনি।
‘ও সানাম’সহ তার বেশ কিছু গান এখনো সংগীতপ্রেমীদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়। এ ছাড়া ‘কহো না পেয়ার হ্যায়’, ‘ইউভা’, ‘বাচনা অ্যায় হাসিনো’, ‘আনজানা আনজানি’ ও ‘তামাশা’র মতো সিনেমাতেও প্লেব্যাক করেছেন তিনি।
২০১৫ সালের পর থেকে মূলধারার বাণিজ্যিক সংগীতের কাজ তুলনামূলক কমিয়ে স্বাধীন সংগীতচর্চায় বেশি মনোযোগী হয়েছেন লাকি আলী। ব্যক্তিজীবনেও নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাওয়া এই শিল্পী তিনবার বিয়ে করেছেন। সম্পর্কগুলো স্থায়ী না হলেও সাবেক স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা যায়।
