আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানায় দলটি।

তবে রাষ্ট্রপতি পদে জামায়াতের চূড়ান্ত প্রার্থী এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। জোটের শরিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।

জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তিনজনের নাম বর্তমানে বেশি আলোচনায় রয়েছে। তারা হলেন দলের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং জোটের শরিক এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তিকেও প্রার্থী করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা রয়েছে।

জামায়াত ও তাদের রাজনৈতিক জোটের নেতাদের মতে, সংসদ সদস্যদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় বর্তমান সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে ফলাফল অনেকটাই অনুমেয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ৩০০ আসনের মধ্যে ২১১টি আসন পাওয়ায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর জয়ী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছেন তারা।

তারপরও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থী দেওয়াকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখছে জামায়াত। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, এখনো চূড়ান্ত মনোনয়ন নির্ধারণ করা হয়নি। শরিকদের সঙ্গে আলোচনা করেই প্রার্থী বাছাই করা হবে।

অন্যদিকে গত ১ আগস্ট বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর দেওয়া হয়েছে। ফলে বিএনপির পক্ষ থেকে কে প্রার্থী হচ্ছেন, তা নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম রয়েছে। পাশাপাশি নজরুল ইসলাম খান, আবদুল মঈন খান ও খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নামও আলোচনায় রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা হাফিজ উদ্দিন আহমদের নামও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

দলীয় সূত্রের ভাষ্য, সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বয়স, শারীরিক সক্ষমতা এবং দল ও সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে কার ভূমিকা বেশি প্রয়োজন—এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। এ কারণে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকাও আগের তুলনায় সীমিত হয়ে এসেছে।

এর আগে গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যবস্থা করার কথা।

এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version