যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত গাজা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গাজায় গঠিতব্য একটি ফিলিস্তিনি প্রশাসনিক কমিটির কাছে অস্ত্র হস্তান্তরের বিষয়েও তারা আলোচনায় যেতে রাজি বলে জানিয়েছে।
শনিবার হামাসের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-কে এ অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নে ইসরাইলকে চাপ দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
হামাসের এক কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী তাদের অবস্থান জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, চুক্তির বাস্তবায়ন শুরু হলে তারা পরবর্তী ধাপে যেতে প্রস্তুত। তবে এর জন্য ইসরাইলের সম্মতি এবং চুক্তির বাস্তবায়ন কার্যকর হওয়া প্রয়োজন।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, চুক্তির শর্তগুলো যাতে ইসরাইল মেনে চলে, সে জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেশটির ওপর প্রয়োজনীয় চাপ প্রয়োগ করা উচিত।
তবে ইসরাইলের অবস্থান এখনো ভিন্ন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ‘বোর্ড অব পিস’-এর উপস্থাপিত শান্তি পরিকল্পনার সর্বশেষ অংশে ইসরাইল সম্মতি দেয়নি।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, শান্তি পরিকল্পনার আওতায় হামাস নিরস্ত্রীকরণে রাজি হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এর বিনিময়ে ধাপে ধাপে গাজার একটি বড় অংশ থেকে ইসরাইলি সেনাদের প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছিল।
পরে ‘বোর্ড অব পিস’-এর গাজাবিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভের সঙ্গে নেতানিয়াহুর বৈঠকের পর ইসরাইলের অবস্থানে পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ম্লাদেনভের বক্তব্য অনুযায়ী, হামাস পুরোপুরি অস্ত্র ত্যাগ করার পরই গাজা থেকে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহার করবে ইসরাইল।
এদিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হামাসের বিরুদ্ধে তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। ফলে শান্তি পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে হামাস ও ইসরাইলের অবস্থানের পার্থক্য এখনো বড় বাধা হয়ে রয়েছে।
