সরকারি দলের নেতারা জুলাই সনদ পুরোপুরি বাস্তবায়নের কথা বললেও বাস্তবে তারা নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি কতটা পালন করছেন—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।

শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ডিআরইউ মিলনায়তনে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ প্রশ্ন তোলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সভাটির বিষয় ছিল ‘রক্তাক্ত জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও জাতির প্রত্যাশা’

মঞ্জু বলেন, সরকারি দলের নেতারা বারবার জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের কথা বলছেন। কিন্তু বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফায় যে প্রতিশ্রুতিগুলো দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো বাস্তবায়ন না করাই যদি বর্তমান অবস্থান হয়, তাহলে এটিকে কীভাবে জুলাই সনদ যথাযথভাবে পালনের উদাহরণ বলা যায়—এ প্রশ্নের জবাব প্রয়োজন।

আলোচনায় তিনি বিএনপির ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাবের প্রথম দফাটি পড়ে শোনান। সেখানে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ রয়েছে।

সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মঞ্জু। হবিগঞ্জে ছাত্রদলের হামলায় কিশোর আলিফের চোখে গুরুতর আঘাত এবং ঢাকার আলিয়া মাদ্রাসায় হামলার সময় জানালার কাচ ভাঙচুরের অভিযোগ উল্লেখ করে তিনি রাজনৈতিক সমালোচনার ক্ষেত্রে সহনশীলতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

তার ভাষ্য, সামান্য রাজনৈতিক সমালোচনার জবাব যদি আগ্রাসী আচরণের মাধ্যমে দেওয়া হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃত্বের দেওয়া প্রতিশ্রুতির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে।

দেশের অতীত রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথাও স্মরণ করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান। তার মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর দমন-পীড়নের কারণে বিরোধী দলগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল না হলে বিএনপির ওপরও আরও কঠোর পদক্ষেপ আসতে পারত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আব্দুল কাইউম সুবহানী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব অধ্যাপক আহমদ আব্দুল কাদের এবং নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা ইজহারসহ অন্য নেতারা।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version