ভারতের অন্যতম বড় প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থানের কেন্দ্র বেঙ্গালুরুতে আবাসন খাতের উচ্চমূল্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। গত কয়েক বছরে শহরটির ফ্ল্যাটের দাম যেভাবে বেড়েছে, তাতে ভালো এলাকায় একটি সাধারণ বাসা কেনাও অনেক চাকরিজীবীর কাছে কঠিন হয়ে উঠেছে।

বেঙ্গালুরু দীর্ঘদিন ধরে প্রযুক্তি খাতের দক্ষ কর্মীদের জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় শহর। বিপুল কর্মসংস্থান ও তুলনামূলক উচ্চ বেতনের কারণে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রযুক্তি পেশাজীবীরা এখানে আসেন। কিন্তু আয় বাড়লেও আবাসনের মূল্য যে গতিতে বাড়ছে, তার সঙ্গে তাল মেলাতে পারছেন না অনেক চাকরিজীবী।

তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে বেঙ্গালুরুতে আবাসিক সম্পত্তির দাম প্রায় ৬৬ শতাংশ বেড়েছে। ফলে আগে থেকেই তুলনামূলক ব্যয়বহুল এই শহরে নতুন করে বাড়ির মালিক হওয়ার স্বপ্ন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

সম্প্রতি এক্সে (সাবেক টুইটার) এক ব্যবহারকারীর পোস্টকে কেন্দ্র করে বিষয়টি আবার আলোচনায় আসে। শঙ্কর ভন নামের ওই ব্যবহারকারী প্রশ্ন তোলেন, শহরের যে কর্মীশক্তি বেঙ্গালুরুর অর্থনৈতিক বিকাশে বড় ভূমিকা রেখেছে, তারাই কি এখন আবাসনের চড়া দামের কারণে শহরটি থেকে দূরে সরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন?

তিনি দাবি করেন, ২০২৬ সালে বেঙ্গালুরুর ভালো কোনো এলাকায় একটি সাধারণ দুই বেডরুমের ফ্ল্যাট কিনতে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ থেকে ১ কোটি ৮০ লাখ রুপি পর্যন্ত খরচ হতে পারে। শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় এক কোটি রুপির নিচে ফ্ল্যাট খুঁজে পাওয়া আরও কঠিন বলে তার মন্তব্য।

এ ধরনের সম্পত্তি কিনতে গেলে মাসে প্রায় ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ১০ হাজার রুপি পর্যন্ত ঋণের কিস্তি গুনতে হতে পারে। মাঝারি আয়ের চাকরিজীবীদের জন্য এই অঙ্ক মাসিক আয়ের বড় একটি অংশ নিয়ে নিতে পারে।

শঙ্করের মতে, বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই তাদের বাবা-মায়ের তুলনায় বেশি আয় করছেন। তারপরও সম্পত্তির মূল্য বৃদ্ধির কারণে নিজের বাড়ি কেনা আগের চেয়ে কঠিন হয়ে গেছে। আয় ও বাড়ির দামের মধ্যকার ব্যবধান বাড়তে থাকায় অনেক মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে শুধু বাড়ি কেনার জন্য সঞ্চয় করে যাচ্ছেন।

তার পোস্টের পর অন্য শহরের বাসিন্দারাও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান। কেউ কেউ দাবি করেন, মহীশূর ও ম্যাঙ্গালুরুর মতো শহরেও আবাসনের দাম দ্রুত বেড়েছে। তাদের একজনের মতে, মহীশূরের কেন্দ্রীয় এলাকায় এক কোটি রুপিতেও ভালো দুই বেডরুমের ফ্ল্যাট পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

আরেক ব্যবহারকারী ম্যাঙ্গালুরুর উদাহরণ দিয়ে জানান, সেখানেও সম্পত্তির মূল্য অনেক বেড়েছে এবং কিছু এলাকায় তিন কোটি রুপি বা তার বেশি দামের ফ্ল্যাটের দেখা মিলছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনায় আবাসনের দাম বৃদ্ধির পেছনে প্রবাসী ভারতীয়দের বিনিয়োগ, জল্পনামূলক বিনিয়োগ এবং রিয়েল এস্টেট খাতে অতিরিক্ত অর্থ প্রবাহের মতো বিভিন্ন কারণের কথাও উঠে এসেছে।

কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, আবাসন খাত অনেক জায়গায় মানুষের মৌলিক থাকার প্রয়োজনের বদলে বিনিয়োগ ও মুনাফার বাজারে পরিণত হয়েছে। এর ফলে সম্পত্তির মূল্য বাড়ছে এবং সাধারণ চাকরিজীবী ও মধ্যবিত্তের জন্য বাড়ি কেনা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।

সব মিলিয়ে, ভারতের অন্যতম প্রধান প্রযুক্তি শহর বেঙ্গালুরুর দ্রুত বাড়তে থাকা আবাসন ব্যয় নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে—উচ্চ আয়ের কর্মসংস্থানের শহর হয়েও সেখানে বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় একটি নিজস্ব বাড়ি কেনা কেন ক্রমেই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version