যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ইরানে সামরিক হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ও মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইরান। এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স, যারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পদক্ষেপের কথা বলার পর তেহরান কূটনৈতিক মাধ্যমে কয়েকটি আঞ্চলিক দেশের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে।
সূত্রগুলোর দাবি, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সৌদি আরব, কাতার, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে উত্তেজনা প্রশমনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, নতুন হামলা হলে ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান চায় আঞ্চলিক দেশগুলো ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ করে নতুন সামরিক অভিযান এড়াতে সহায়তা করুক। তাদের মতে, সংঘাতের বিস্তার রোধে কূটনৈতিক সমাধানই সবচেয়ে কার্যকর পথ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই ধরনের অবস্থান নিয়েছে কাতার ও ওমানও।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বার্তার মাধ্যমে ইরান আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহের ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এনে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি করতে চাইছে।
অন্যদিকে, সৌদি আরব কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে থাকলেও নিজেদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া জানানো হবে বলে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছে।
