আওয়ামী লীগের নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের করা আপিলের শুনানি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগে শুরু হয়েছে।
রোববার সকালে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়। মামলার বিভিন্ন আইনি বিষয় নিয়ে পর্যায়ক্রমে উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করা হচ্ছে।
আহসান উল্লাহ মাস্টার একজন মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক এবং শ্রমিকনেতা ছিলেন। তিনি ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৪ সালের ৭ মে গাজীপুরের নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় সশস্ত্র হামলায় তিনি নিহত হন।
হত্যাকাণ্ডের পর দায়ের করা মামলায় ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণা করে। ওই রায়ে বিএনপির নেতা নুরুল ইসলাম সরকারসহ ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং আরও ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরবর্তীতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি কারাগারে মারা যান।
নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ডেথ রেফারেন্স, জেল আপিল ও আসামিদের আপিলের শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ১৫ জুন হাইকোর্ট রায় দেন। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের বেঞ্চ ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড এবং দুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখেন। একই সঙ্গে সাতজনের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তর করা হয় এবং ১১ জনকে খালাস দেওয়া হয়।
হাইকোর্টের রায়ের পর মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দণ্ডিতদের একজন শহীদুল ইসলাম শিপু কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর বাকি দণ্ডিত আসামিরা হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। সেই আপিলের শুনানিই বর্তমানে আপিল বিভাগে চলমান রয়েছে।
