ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সামরিক পদক্ষেপ থেকে আপাতত সরে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে অনেক বিশ্লেষক মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় সংঘাত এড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো রস হ্যারিসনের মতে, ট্রাম্প কেন শেষ মুহূর্তে হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করলেন, তার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। একইভাবে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির আলোচনায় কী ধরনের বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে, সেটিও পরিষ্কার নয়।
হ্যারিসনের ধারণা, তেহরান এই সিদ্ধান্তকে ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করতে পারে। তার মতে, সম্ভাব্য বড় আকারের সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বিবেচনা করেই শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটন হামলার পথ থেকে সরে এসেছে—এমন ধারণা ইরানের মধ্যে তৈরি হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্পষ্ট সমঝোতা না হলে বর্তমান পরিস্থিতিকে স্থায়ী উত্তেজনা প্রশমনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
বিশ্লেষকের মতে, সাম্প্রতিক সংকটের পেছনে জুন মাসে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের ব্যাখ্যা নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তার দাবি, ইরান ওই চুক্তির একটি ধারা এমনভাবে ব্যাখ্যা করেছে, যাতে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে থাকার বিষয়টি উঠে আসে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ওমানের সহযোগিতায় জাহাজগুলোকে প্রণালির দক্ষিণ উপকূল ঘেঁষে চলাচলের ব্যবস্থা করে, যা দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
রস হ্যারিসন সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত করা এবং অবরোধসংক্রান্ত বিষয়গুলোতে স্পষ্ট ও টেকসই সমঝোতা না হলে বর্তমান শান্ত পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। তার মতে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি স্থায়ী সমাধানের চেয়ে সাময়িক বিরতি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
