মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তেলের দাম এবং রিফাইনিং মার্জিন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ দুই জ্বালানি প্রতিষ্ঠান এক্সনমোবিল ও শেভরনের আর্থিক ফলাফলে। সাম্প্রতিক প্রান্তিকে উভয় কোম্পানিই রেকর্ড পরিমাণ মুনাফার কথা জানিয়েছে।
প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে এক্সনমোবিল জানিয়েছে, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে তাদের নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১৪.৫ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। কোম্পানিটির মতে, তেলের আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধি এবং ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ের রিফাইনিং মার্জিন এই সাফল্যের প্রধান কারণ।
একই সময়ে শেভরন প্রায় ১২.১ বিলিয়ন ডলার নিট মুনাফা করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় পাঁচ গুণেরও বেশি। তেলের উচ্চমূল্য এবং উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে কোম্পানিটির আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ার পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেল ও এলএনজির সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হয়। এর ফলে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পায় এবং বড় তেল কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা পায়।
এক্সনমোবিল আরও জানিয়েছে, বৈশ্বিক রিফাইনিং সক্ষমতার একটি অংশ ব্যাহত হওয়ায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে রিফাইনিং মার্জিন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়। তবে কাতারের এলএনজি স্থাপনায় ক্ষতির কারণে তাদের গ্যাস উৎপাদন কিছুটা কমেছে।
অন্যদিকে, শেভরনের গড় অপরিশোধিত তেল বিক্রির মূল্য ব্যারেলপ্রতি ৯৬.৪১ ডলারে পৌঁছেছে, যা এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ৬৪ শতাংশ বেশি। এছাড়া ২০২৫ সালে হেস অধিগ্রহণের পর উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় কোম্পানিটির আয় আরও শক্তিশালী হয়েছে।
তবে সব দিক ইতিবাচক ছিল না। সৌদি আরব ও কুয়েতের মধ্যবর্তী পার্টিশনড জোনে উৎপাদন হ্রাস এবং কিছু আন্তর্জাতিক রিফাইনারিতে অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াকরণ কমে যাওয়ায় শেভরন কিছু ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জেরও মুখোমুখি হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম গ্যালনপ্রতি ৪ ডলারের বেশি থাকায় সাধারণ ভোক্তাদের অসন্তোষ বাড়ছে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সাম্প্রতিক জনমত জরিপে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ বৃদ্ধির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
যদিও দুই কোম্পানিই শক্তিশালী মুনাফা অর্জন করেছে, তারপরও প্রাক-বাজার লেনদেনে এক্সনমোবিলের শেয়ারের দাম প্রায় ১.৫ শতাংশ এবং শেভরনের শেয়ার প্রায় ০.৩ শতাংশ কমেছে।
