চট্টগ্রামের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলতি বছরের ডিসেম্বরের দিকে শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি এগোচ্ছে। প্রয়োজনীয় সরকারি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়ার পর প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
প্রকল্পটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটর এপিএম টার্মিনালস সম্প্রতি টার্মিনালের প্রস্তাবিত নকশা ও পরিচালনা পরিকল্পনার সারসংক্ষেপ প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমানে নকশা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে এবং এ প্রক্রিয়ায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে।
বন্দরসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও ব্যবহারকারীদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের সমুদ্রবন্দরভিত্তিক লজিস্টিকস অবকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিচালনায় নতুন সক্ষমতা তৈরি হবে।
প্রকাশিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, টার্মিনালটি এমনভাবে নির্মাণ করা হবে যাতে প্রায় ৬ হাজার টিইইউ ধারণক্ষমতার কনটেইনার জাহাজ সরাসরি ভিড়তে পারে। এতে বড় জেটি, আধুনিক শিপ-টু-শোর ক্রেন, বিদ্যুৎচালিত গ্যান্ট্রি ক্রেন এবং পরিবেশবান্ধব টার্মিনাল ট্রাক্টর ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি চালু হলে বড় আকারের জাহাজ সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করতে পারবে। এর ফলে কনটেইনার ওঠানামার সক্ষমতা বাড়বে, পণ্য পরিবহন আরও দ্রুত হবে এবং বন্দরের ওপর বিদ্যমান চাপ কমাতে সহায়তা করবে।
সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) মডেলে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের আওতায় দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে নকশা, অর্থায়ন, নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এপিএম টার্মিনালসকে।
ব্যবসায়িক মহলের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, লালদিয়া টার্মিনাল চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়বে এবং বাংলাদেশ আঞ্চলিক সামুদ্রিক বাণিজ্য ও লজিস্টিকস নেটওয়ার্কে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, সব কাজ নির্ধারিত সময়সূচি অনুসারে এগোলে ২০৩০ সালের মধ্যে টার্মিনালটির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হতে পারে।

