যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগের স্পষ্ট কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার পথ কার্যত স্থবির হয়ে পড়ায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে এবং সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনার পরিবেশ বর্তমানে অনুকূল নয়। সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতার বিভিন্ন উদ্যোগ সফল না হওয়ায় দুই পক্ষের পারস্পরিক অবিশ্বাস আরও গভীর হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে আসা, পরবর্তী অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং ২০২০ সালে ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা কাসেম সোলেইমানির নিহত হওয়ার ঘটনার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে অবনতির দিকে যায়।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান তার আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর আরও বেশি নির্ভর করতে পারে। বিশেষ করে ইয়েমেনভিত্তিক হুথি গোষ্ঠীর তৎপরতা বৃদ্ধি পেলে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
বাব আল-মান্দেব প্রণালি বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ। এ রুট দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি এবং বিপুল পরিমাণ আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহন হয়। ফলে সেখানে অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ও জ্বালানি বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি বাব আল-মান্দেবেও যদি দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন সৃষ্টি হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।
এদিকে বিভিন্ন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ সতর্ক করেছেন, সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেতে পারে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
তাদের মতে, পরিস্থিতি আরও অবনতির আগে কূটনৈতিক সংলাপ পুনরায় শুরু করা এবং উত্তেজনা কমানোর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়াই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সমাধান।
