জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ২৮ জনে পৌঁছেছে। দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এখনও উদ্ধার তৎপরতা জোরদারভাবে চলছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের খুঁজে বের করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার কিউশু দ্বীপে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কুমামোতো প্রশাসনিক অঞ্চল। সেখানে একটি শপিং মল ধসে পড়েছে এবং একটি কাগজ কারখানাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব স্থানে উদ্ধারকর্মীরা এখনও অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন।
মূল ভূমিকম্পের পর থেকে এলাকাজুড়ে একের পর এক অনুকম্পন অনুভূত হচ্ছে, যা উদ্ধার কার্যক্রমকে আরও জটিল করে তুলেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে কিউশু শিনকানসেন বুলেট ট্রেনের কুমামোতো ও কাগোশিমা-চুও স্টেশনের মধ্যবর্তী অংশে রেল চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে কিছু অংশে ধাপে ধাপে ট্রেন চলাচল পুনরায় চালুর চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ।
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। ফলে হাজারো মানুষ জরুরি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
জাপান সরকার জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধার, চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে সেনাবাহিনী, দমকল বাহিনী ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। একই সঙ্গে পরবর্তী অনুকম্পনের ঝুঁকি বিবেচনায় জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
