সম্ভাব্য ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বুধবার সচিবালয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় ভূমিকম্পের পর দ্রুত উদ্ধার, চিকিৎসা ও জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে একটি জাতীয় টাস্কফোর্স গঠনের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। একই সঙ্গে ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় জরুরি পরিস্থিতিতে কাজ করার জন্য মোট এক লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন জানান, ইতোমধ্যে ৭০ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের তথ্যভান্ডার প্রস্তুত করা হয়েছে। খুব শিগগিরই আরও ৩০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক যুক্ত করে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা হবে।
সভায় প্রয়োজনীয় উদ্ধার সরঞ্জাম সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং দ্রুত সরবরাহের কৌশল নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে ভূমিকম্প বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রচার ও প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচি গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে ভূমিকম্প প্রস্তুতি বিষয়ক একটি বিশেষ সেল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া দুর্যোগকালীন সময়ে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও কার্যকর করার উপায় নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে।
এ ছাড়া রাজধানী ঢাকায় হিউম্যানিটারিয়ান স্টেজিং এরিয়া (এইচএসএ) বা জরুরি ত্রাণ, উদ্ধার সরঞ্জাম ও মানবিক সহায়তা দ্রুত বিতরণের জন্য বিশেষ লজিস্টিক হাব স্থাপনের প্রস্তাবও আলোচনায় আসে।
সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য খাতসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সরকারি প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সরকারের লক্ষ্য, সম্ভাব্য বড় ধরনের ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে দ্রুত ও সমন্বিত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা আরও বাড়ানো।
