বিশ্ব ফুটবলের দুই প্রভাবশালী সংস্থা ফিফা ও উয়েফার মধ্যে আবারও মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতের বিশ্বকাপে বেসরকারি বিনিয়োগ যুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। এই সম্ভাব্য উদ্যোগের বিরোধিতা করে উয়েফা বলেছে, বিশ্বকাপ কোনো বাণিজ্যিক সম্পদ নয় এবং ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ কেনাবেচার বিষয় হতে পারে না।
উয়েফার বক্তব্য, ফুটবল পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোর দায়িত্ব হলো খেলাটির স্বচ্ছতা, ন্যায়সংগত পরিচালনা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ রক্ষা করা। তাদের মতে, যদি আর্থিক অংশীদার যুক্ত করার প্রক্রিয়ায় পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা না থাকে, তাহলে ফুটবলের স্বাধীনতা ও পরিচালনা ব্যবস্থা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। সংস্থাটি আরও জানায়, ফুটবল কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, তাই এর নিয়ন্ত্রণ বা অধিকার বাণিজ্যিকভাবে হস্তান্তরের সুযোগ থাকা উচিত নয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিফা সদস্য দেশগুলোর সম্মতি নিয়ে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার বেসরকারি বিনিয়োগ সংগ্রহের একটি পরিকল্পনা বিবেচনা করছে। এই অর্থ বিশ্বব্যাপী ফুটবলের উন্নয়ন ও অবকাঠামো শক্তিশালী করার কাজে ব্যবহার করা হতে পারে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নির্দিষ্ট কাঠামোয় সহযোগিতার বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে, যদিও টুর্নামেন্ট পরিচালনার চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ ফিফার কাছেই থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছেন, বিশ্বকাপ থেকে অর্জিত সুযোগ-সুবিধা যেন বিশ্বের প্রতিটি অঞ্চলের ফুটবল উন্নয়নে কাজে লাগে, সেটিই সংস্থার মূল লক্ষ্য। তাঁর মতে, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের মাধ্যমে সব সদস্য দেশের ফুটবলকে আরও শক্তিশালী করাই ফিফার উদ্দেশ্য।
ফিফার ধারণা, নতুন বিনিয়োগ কাঠামো বাস্তবায়িত হলে সদস্য দেশগুলো এককালীন উল্লেখযোগ্য আর্থিক সহায়তা পেতে পারে, যা স্থানীয় ফুটবল উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে ব্যয় করা সম্ভব হবে। তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে বিশ্বকাপের ওপর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রভাব বাড়াতে পারে। ফলে বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে আলোচনা ও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
