টানা বর্ষণের প্রভাবে নোয়াখালী জেলায় জলাবদ্ধতার সমস্যা আবারও প্রকট হয়ে উঠেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হওয়ার পর পৌর শহর মাইজদীর প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। বর্ষার শুরুতেই এমন পরিস্থিতিতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন প্রায় দেড় লাখ পৌরবাসী।

শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে প্রধান সড়ক, পুলিশ লাইনস রোড, হাউজিং রোড, সার্কিট হাউস এলাকা, ফকিরপুর রোড এবং পুরাতন জেলখানা সড়কসহ একাধিক স্থানে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত পানি জমে রয়েছে। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীদের নিত্যদিনের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, পানি নিষ্কাশনের দুর্বল অবকাঠামো এবং দীর্ঘদিন ধরে খাল পরিষ্কার না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যায়। তাদের দাবি, ড্রেন নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও অনেক জায়গায় কার্যকরভাবে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না।

বাসিন্দারা আরও জানান, সদর হাসপাতাল সড়ক, পুরাতন জেলখানা সড়কসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় প্রতি বর্ষাতেই একই ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। বর্ষাকালেই ড্রেন নির্মাণ ও সংস্কারকাজ চলায় অনেক সড়কের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০২৪-২৫ সালের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতি এখনও কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই নতুন করে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পৌরবাসীর দাবি, দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, শহরের খাল পুনঃখনন এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগ নেওয়া হলে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে এবং সম্ভাব্য বন্যার ঝুঁকিও কমবে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের নোয়াখালীর উপপরিচালক ডা. মো. শেখ ছাদেক বলেন, নোয়াখালী পৌরসভা নিম্নাঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় বৃষ্টির সময় অনেক এলাকায় পানি জমে। তিনি জানান, গত অর্থবছরে জলাবদ্ধতা কমাতে আটটি খাল ও সাতটি ড্রেন পরিষ্কার করা হয়েছে। তবে অনেক স্থানে ড্রেনে আবর্জনা ফেলায় পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। পৌরসভার সামর্থ্য অনুযায়ী সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কাজ চলমান রয়েছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version