জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর হামলায় দুই সেনা সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। এর পরপরই ইরানের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক বিমান হামলা শুরু করে মার্কিন বাহিনী।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যা থেকে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার জন্য দায়ী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানাই এ অভিযানের উদ্দেশ্য।

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, বন্দর আব্বাস ও কেশম দ্বীপে ভোরের দিকে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কয়েকটি স্থানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কেশম দ্বীপে একাধিকবার বিমান হামলা হয়েছে, যার ফলে কিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সমঝোতার প্রচেষ্টা ভেঙে যাওয়ার পর উভয় পক্ষই সামরিক অবস্থান আরও জোরদার করেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে ঘিরেও নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা থাকায় আন্তর্জাতিক মহল সংযম প্রদর্শন এবং কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version