হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরানের কাছ থেকে প্রকাশ্য প্রতিশ্রুতি চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যেই শনিবার (১১ জুলাই) ওমানে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করবে ওয়াশিংটন।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাকে ইরান একটি ভুল হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে তেহরানের দাবি, এসব ঘটনার পেছনে তাদের সরাসরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা একটি অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠী জড়িত ছিল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও দুই দেশ কূটনৈতিক সংলাপ চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে। হোয়াইট হাউসের মতে, জাহাজে হামলার ঘটনা পূর্বে হওয়া যুদ্ধবিরতি সমঝোতার পরিপন্থী।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছেন, তেহরান চুক্তির শর্ত মেনে চলেছে এবং বরং যুক্তরাষ্ট্রই সমঝোতার বিভিন্ন অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে।

পূর্ববর্তী সমঝোতা অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ইরান। তেহরানের বক্তব্য, সাম্প্রতিক হামলার পেছনে উগ্রপন্থী একটি গোষ্ঠীর ভূমিকা ছিল, যারা চলমান আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে।

মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে ইরান প্রকাশ্যে ঘোষণা দেবে যে হরমুজ প্রণালি নিরাপদ ও উন্মুক্ত থাকবে এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক জাহাজে আর কোনো হামলা চালানো হবে না।

ওমানে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলে থাকবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার। ইরানের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির।

এদিকে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে কাতারের একটি প্রতিনিধিদলও তেহরান সফর করেছে। একই সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ওমান উপকূলের কাছে কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার পর এই বৈঠককে দুই দেশের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version