লন্ডনে এক ইরানি সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় যুক্তরাজ্যের আনা অভিযোগকে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। অভিযোগগুলোকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ উল্লেখ করে তেহরানে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করেছে দেশটি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ কর্মকর্তারা বারবার ইরানের বিরুদ্ধে প্রমাণবিহীন অভিযোগ তুলছেন বলে তেহরানের দাবি। এ কারণে রাষ্ট্রদূতকে ডেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে এবং যুক্তরাজ্যের অবস্থানের সমালোচনা করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত লন্ডনে ফারসি ভাষার সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল-এর উপস্থাপক পুরিয়া জেরাতির ওপর ছুরিকাঘাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। তার বাসার সামনে সংঘটিত ওই হামলার ঘটনায় দুই রোমানিয়ার নাগরিককে দোষী সাব্যস্ত করে ব্রিটিশ আদালত কারাদণ্ড দিয়েছেন।
রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থাপিত তথ্যের ভিত্তিতে বিচারক হামলার সঙ্গে ইরান সরকারের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দেন। পরে যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা ঈগল এই ঘটনাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে ইরান পাল্টা অভিযোগ করে বলেছে, যুক্তরাজ্যে এমন কিছু গণমাধ্যম ও সংগঠন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, যেগুলো তাদের ভাষ্য অনুযায়ী সহিংসতা ও সন্ত্রাসে উসকানি দেয় এবং বিদেশি সমর্থন পেয়ে পরিচালিত হয়। ইরানের দাবি, এসব কার্যক্রম আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং সেগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
সাম্প্রতিক এই কূটনৈতিক উত্তেজনা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেও এখন পর্যন্ত বিরোধ নিরসনের কোনো সমঝোতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
