চীন ও রাশিয়া চলতি জুলাই মাসে তাদের নিয়মিত যৌথ নৌ-মহড়া আয়োজন করতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে মহড়া শেষে প্রশান্ত মহাসাগরের নির্ধারিত কিছু এলাকায় দুই দেশের নৌবাহিনী যৌথ টহল পরিচালনা করবে বলে জানিয়েছে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামরিক সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে জোরদার হয়েছে। অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে অভিন্ন অবস্থান নেওয়ায় বেইজিং ও মস্কোর ঘনিষ্ঠতা আরও বেড়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ‘জয়েন্ট সি-২০২৬’ নামে এই মহড়া চীনের পূর্বাঞ্চলের উপকূলীয় শহর ছিংদাওয়ের আশপাশের সমুদ্র ও আকাশসীমায় অনুষ্ঠিত হবে। মহড়া শেষ হওয়ার পর অংশগ্রহণকারী নৌবাহিনীর একটি অংশ প্রশান্ত মহাসাগরের নির্দিষ্ট এলাকায় যৌথ সামুদ্রিক টহলে অংশ নেবে।
চীনের দাবি, এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য হলো সম্ভাব্য নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানো এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহযোগিতা জোরদার করা।
তবে মহড়ায় কতটি যুদ্ধজাহাজ, বিমান বা কতসংখ্যক সেনাসদস্য অংশ নেবেন, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ঘোষণাটি এসেছে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাম্প্রতিক চীন সফরের কিছুদিন পর। ওই সফরে পুতিন দুই দেশের সম্পর্ককে ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেন। একই সময়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্বকে দৃঢ় ও দীর্ঘমেয়াদি বলে উল্লেখ করেন।
চীন ও রাশিয়া ২০১২ সাল থেকে ‘জয়েন্ট সি’ সিরিজের নৌ-মহড়া নিয়মিত আয়োজন করে আসছে। সর্বশেষ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছিল রাশিয়ার ভ্লাদিভস্তক উপকূলের কাছে। এরপর দুই দেশের নৌবাহিনী প্রশান্ত মহাসাগরে যৌথ টহলও পরিচালনা করে।
ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে চীন প্রকাশ্যে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের নিন্দা জানায়নি। যদিও বেইজিং বারবার বলেছে, তারা এই সংঘাতে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে এবং কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের পশ্চিমা মিত্রদের অভিযোগ, চীন বিভিন্নভাবে রাশিয়াকে সহযোগিতা করে আসছে—যদিও বেইজিং এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে।

