স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও এখনো আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা হয়নি। এ পরিস্থিতিতে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি সাংগঠনিক প্রস্তুতি চালিয়ে গেলেও আপাতত কোনো প্রার্থীকে দলীয় সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না। দলীয় সূত্রের ভাষ্য, নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করার পর আইনগত বিধান অনুসরণ করে একক প্রার্থীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দলটির নীতিনির্ধারকদের মতে, যেহেতু স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, তাই আগেভাগে দলীয় প্রার্থী ঘোষণার সুযোগও সীমিত। সে কারণে কেন্দ্রীয়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি অব্যাহত রাখা হয়েছে।
বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক গ্রহণযোগ্যতা এবং মাঠপর্যায়ের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছেন। দলীয় সূত্র জানায়, অতীতে বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে যে ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল, তা এড়াতে এবার ত্যাগী, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির এবং সংগঠনে সক্রিয় নেতাদের মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা জানিয়েছেন, জাতীয় নির্বাচন শেষে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় জনসংযোগ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন। তবে কেন্দ্র থেকে এখনো কাউকে আনুষ্ঠানিক সমর্থনের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, বর্ষা মৌসুমের পর ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সম্ভাব্য সময়সূচি অনুযায়ী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু হতে পারে। পরে পর্যায়ক্রমে পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ এবং সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা মনে করছেন, নির্বাচন ঘোষণার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই প্রার্থী বাছাই ও সমর্থনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য অনেক প্রার্থী নিজ নিজ এলাকায় প্রচার-প্রচারণা ও জনসংযোগ বাড়িয়েছেন।
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন এলাকাতেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা সক্রিয় রয়েছেন। কেউ সামাজিক কর্মসূচির মাধ্যমে, আবার কেউ স্থানীয় উন্নয়নমূলক উদ্যোগে অংশ নিয়ে ভোটারদের কাছে নিজেদের পরিচিতি বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অন্যান্য দল ইতোমধ্যে কিছু এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করায় বিএনপির ভেতরেও প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে। তবে দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা মনে করছেন, তফসিল ঘোষণার পর ঐক্যবদ্ধভাবে একক প্রার্থীকে সমর্থন দিতে পারলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক অবস্থান ধরে রাখা সহজ হবে।
