আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলটির নেতাদের ভাষ্য, তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন বিস্তার এবং নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তি যাচাইয়ের লক্ষ্যেই আপাতত কোনো জোটে না গিয়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানিয়েছেন, সিটি করপোরেশন থেকে শুরু করে উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ—সব স্তরের নির্বাচনকে গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তুতি চলছে। তিনি বলেন, বর্তমানে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এনসিপি এককভাবেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে এবং মাঠপর্যায়ে প্রচারণাও শুরু হয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচন জোটগতভাবে করার বিষয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা থাকলেও এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতা হয়নি। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

এনসিপি জানিয়েছে, ইতোমধ্যে কয়েকটি সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে এবং আরও কয়েকটি স্থানের প্রার্থী চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। পাশাপাশি উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়েও বহু সম্ভাব্য প্রার্থীকে বাছাই করা হয়েছে। দলটির দাবি, নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।

দলীয় সূত্রের দাবি, প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে নতুন মুখের পাশাপাশি অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে আসা অভিজ্ঞ নেতাদেরও মূল্যায়ন করা হচ্ছে। বিভিন্ন দল থেকে বিচ্ছিন্ন বা বহিষ্কৃত কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও এনসিপির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে সমন্বয় ও কৌশল নির্ধারণের আলোচনা চলছে। বিশেষ করে সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে নানা রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ দেখা যাচ্ছে।

ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এনসিপির পক্ষে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নাম আলোচনায় রয়েছে। একই সময়ে অন্য রাজনৈতিক দল থেকেও সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম সামনে আসায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

এনসিপির নেতারা মনে করছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে দলটি তৃণমূল পর্যায়ে আরও বিস্তৃত সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তুলতে পারবে। তবে দলটির ভেতর ও বাইরে কিছু মহল থেকে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে ভিন্নমতও প্রকাশ করা হয়েছে। যদিও এসব বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা আসেনি।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version