ঋণখেলাপির অভিযোগের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম-৪ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এই রায়ের ফলে তিনি আর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করতে পারবেন না।

মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। তবে এই আসনে নতুন নির্বাচন হবে, নাকি অন্য কোনো প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে—সে বিষয়ে আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর চূড়ান্ত অবস্থান জানা যাবে।

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম-৪ আসনে পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে ভোটাররা আবারও তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন।

অন্যদিকে, মামলার আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে ঋণখেলাপির কারণে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা আইনগতভাবে বাতিল হয়েছে।

এর আগে হাইকোর্টের একটি রায়ের মাধ্যমে তিনি গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুমতি পেয়েছিলেন। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আনোয়ার সিদ্দিকী। তার দাবি ছিল, ঋণখেলাপি হওয়ায় আসলাম চৌধুরীর নির্বাচনে অংশগ্রহণের আইনগত সুযোগ ছিল না।

যদিও নির্বাচনে আসলাম চৌধুরী জয়লাভ করেছিলেন, আপিল বিভাগের পূর্ববর্তী নির্দেশনার কারণে তার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়নি।

মামলাটির শুনানির সময় আপিল বিভাগ দুইজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীকে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে মতামত দেওয়ার দায়িত্ব দেয়। পরে পূর্ণাঙ্গ শুনানি শেষে আদালত চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে নির্বাচন কমিশনে দায়ের করা আপিল এবং পরবর্তীতে হাইকোর্টে করা রিট—দুটিই খারিজ হয়েছিল। পরে আপিল বিভাগে আবেদন করা হলে আদালত ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখেন। সর্বশেষ রায়ে আদালত আসলাম চৌধুরীকে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রায় ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকার ঋণখেলাপির অভিযোগ রয়েছে, যা এই মামলার অন্যতম প্রধান বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version