সিন্ধু নদীর পানিবণ্টন ইস্যুকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। পাকিস্তান সরকার বলেছে, দেশের ন্যায্য পানির প্রবাহে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা হলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।
এই প্রতিক্রিয়া আসে ভারতের কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর, যেখানে তিনি আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে ভারতের প্রাপ্য পানির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথা জানান।
ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক বলেন, দেশের কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং অর্থনীতি অনেকাংশেই সিন্ধু নদীর পানির ওপর নির্ভরশীল। তাই পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে পাকিস্তানকে বঞ্চিত করার কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক নদী ব্যবস্থাপনায় নিম্ন অববাহিকার দেশের পানির অধিকার স্বীকৃত। ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তিও সেই অধিকার নিশ্চিত করেছে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরেও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবে পাকিস্তান।
একই অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি এখনো আইনগতভাবে কার্যকর রয়েছে এবং কোনো দেশ একতরফাভাবে এটি বাতিল বা পরিবর্তন করতে পারে না। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, সিন্ধু নদীর পানি পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এ বিষয়ে দেশটির অবস্থান অনড়।
অন্যদিকে ভারত জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তির বাস্তবায়ন স্থগিত রাখা হয়েছে। ভারতের দাবি, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ ও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে তাদের অবস্থানের পরিবর্তন হবে না।
দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় পানি কূটনীতি এবং আঞ্চলিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
