ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ১ হাজার ৩৩ কোটি ২১ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেছে। বাজেটের সবচেয়ে বড় অংশ ব্যয় হবে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে, আর গবেষণার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে মোট বাজেটের মাত্র ২.০৩ শতাংশ।
সোমবার (২৯ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বাজেটটি উপস্থাপন করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মোট বাজেট চাহিদা ছিল ১ হাজার ৪২২ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) অনুমোদন দিয়েছে ৯৪৯ কোটি টাকা, যা মোট চাহিদার প্রায় ৬৭ শতাংশ। পাশাপাশি নিজস্ব আয় থেকে ৮৫ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবুও প্রায় ৮৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকার বাজেট ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বেতন খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩২৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা, যা মোট বাজেটের ৩১.৫০ শতাংশ। ভাতা বাবদ বরাদ্দ ২২৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা (২১.৭২ শতাংশ) এবং পণ্য ও সেবা খাতে ২২২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা (২১.৫৮ শতাংশ)। এছাড়া পেনশন ও অবসর সুবিধার জন্য রাখা হয়েছে ১৫০ কোটি ২৯ লাখ টাকা, যা মোট বাজেটের ১৪.৫৫ শতাংশ।
গবেষণার জন্য প্রস্তাবিত বরাদ্দ ২১ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের মাত্র ২.০৩ শতাংশ। আগের অর্থবছরেও এ খাতে বরাদ্দ ছিল প্রায় একই, অর্থাৎ ২.০৮ শতাংশ। এছাড়া অন্যান্য অনুদান, যন্ত্রপাতি, যানবাহন, তথ্যপ্রযুক্তি সরঞ্জাম ও মূলধনী ব্যয়ের জন্য পৃথক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
বাজেট উপস্থাপনকালে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, একটি গবেষণাকেন্দ্রিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর হতে হলে গবেষণায় আরও বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন। তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে ইউজিসি গবেষণা খাতে কোনো পৃথক বরাদ্দ দেয়নি, যা উদ্বেগজনক।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) খাতে ব্যয় জিডিপির মাত্র ০.৩ শতাংশ, যেখানে ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো তুলনামূলক অনেক বেশি বিনিয়োগ করে। তার মতে, বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সাধারণত তাদের মোট বাজেটের ১০ থেকে ২৫ শতাংশ গবেষণায় ব্যয় করে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, এই বাজেট শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নয়, দেশের অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও একটি দিকনির্দেশনামূলক কাঠামো হতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে ভবিষ্যতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বের শীর্ষ ২০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাতারে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

