আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩-এর সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে করা রিটকে ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি প্রচেষ্টা বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বিচারিক কার্যক্রম এবং প্রসিকিউশনের অগ্রগতিকে বিতর্কিত করতে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
আমিনুল ইসলাম জানান, ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ট্রাইব্যুনাল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিচার সম্পন্ন করেছে। তার দাবি, বর্তমানে চলমান বিচারকাজ আইনানুগ, স্বচ্ছ ও দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাওয়ায় কিছু মহল ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার ও আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিচারপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, যিনি ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তুলেছেন, তিনি অতীতে এই একই ট্রাইব্যুনালের মামলায় আইনজীবী হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন। তার অভিযোগ, বিশেষ উদ্দেশ্যে এবং কিছু পক্ষের প্ররোচনায় ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত করার লক্ষ্যেই রিট আবেদনটি করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামেও উত্থাপনের চেষ্টা চলছে বলেও তিনি দাবি করেন।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩-এর সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মহসিন রশিদ আবেদনটি দাখিল করেন।
রিটে আইনটির কয়েকটি ধারার সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আবেদনকারীর মতে, এসব বিধান সংবিধানে স্বীকৃত মৌলিক অধিকার এবং ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই সংশ্লিষ্ট ধারাগুলোর সাংবিধানিক বৈধতা আদালতের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
