জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কিংবা বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত মৌলিক চুক্তিগুলো সংসদের বাইরে নয়, সংসদের মাধ্যমেই হওয়া উচিত। এতে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।
শনিবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বিদেশ সফর নিয়ে আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উত্থাপিত প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে বিরোধী দল প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
ডা. শফিকুর রহমানের মতে, আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলো সংসদে উপস্থাপন করা হলে জনপ্রতিনিধিরা বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগত হতে পারবেন এবং সরকারের কর্মকাণ্ডের ওপর কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত হবে। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদই হওয়া উচিত রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল কেন্দ্র।
প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক দুই দেশের সফরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, উভয় দেশই বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধু। তবে দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্য আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তার মতে, তৈরি পোশাক ও জনশক্তি রপ্তানির বাইরে নতুন খাত বিকাশে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি।
পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালিত হবে পারস্পরিক সম্মান, সমতা এবং জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে। কোনো বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয় এবং যেকোনো দ্বিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় চুক্তি হতে হবে উভয় দেশের স্বার্থ রক্ষার ভিত্তিতে।
সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতিরও আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, সরকার ও বিরোধী দলের সম্পর্ক শুধু বিরোধিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। সরকার যেমন বিরোধী দলের মতামতকে সম্মান করবে, তেমনি বিরোধী দলেরও দায়িত্ব থাকবে গঠনমূলক সমালোচনার পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা।
