মোংলা বন্দরের কাছে আগে ভারতের জন্য সংরক্ষিত একটি অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়নের দায়িত্ব এবার চীনের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কাছে দিয়েছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থার মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই পদক্ষেপকে বাংলাদেশের বিনিয়োগ নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন (সিসিইসিসি)-এর মধ্যে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। এর আওতায় মোংলা বন্দরের পাশে প্রায় ১১০ একর জমিতে চীন-বাংলাদেশ মোংলা বন্দর অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৫ সালে বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই জমি ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় ২০২৫ সালের অক্টোবরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রকল্পটি বাতিল করে।

চীন সফরের সময় স্বাক্ষরিত একাধিক বিনিয়োগ চুক্তির মধ্যে মোংলার এই প্রকল্পকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সফরে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় একটি চীনা শিল্প ও অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ কর্পোরেশন (সিআরবিসি)-এর সঙ্গে পৃথক সমঝোতা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানো এবং ব্যবসায়িক সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড (সিসিপিআইটি)-এর মধ্যেও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এদিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলে চীনের হান্ডা গ্রুপকে জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি সেখানে প্রায় ২২ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে বলে জানিয়েছে বিডা।

মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলটি প্রথমে ভারতীয় বিনিয়োগের আওতায় বাস্তবায়নের পরিকল্পনা ছিল। ২০১৮ সালে ভারত সরকার হিরানান্দানি গ্রুপকে প্রকল্পের ডেভেলপার হিসেবে মনোনয়ন দেয় এবং পরে তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইসিপিএলের সঙ্গে বেজা সমঝোতা করে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভূমি উন্নয়নের কাজ শুরু না হওয়ায় প্রকল্পটি দীর্ঘদিন অগ্রগতি পায়নি।

পরে বাংলাদেশে চীনের দূতাবাস একই স্থানে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেয়। এরপর সরকার ভারত-সমর্থিত প্রকল্পটি বাতিল করে নতুন উদ্যোগ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়।

বেজার নির্বাহী সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) মো. নজরুল ইসলাম জানান, নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চলে টেলিযোগাযোগ, ইলেকট্রনিক্সসহ উচ্চ মূল্য সংযোজনকারী শিল্প স্থাপনে চীনা বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ দেখিয়েছেন। তাদের পরিকল্পনায় আধুনিক শিল্পকারখানা ও উন্নতমানের গুদাম সুবিধাও রয়েছে।

তিনি আরও জানান, আপাতত এটি সরকার-টু-সরকার সমঝোতা হিসেবে এগোবে। চীনা প্রতিষ্ঠান মাস্টারপ্ল্যান প্রস্তুত করার পর কারিগরি ও আলোচনাকারী কমিটির মূল্যায়নের ভিত্তিতে পরবর্তী চুক্তি সম্পন্ন হবে। এ প্রকল্পে বেজা জমি প্রদান করবে এবং অবকাঠামো নির্মাণের দায়িত্ব পালন করবে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান। পরবর্তী আলোচনায় অংশীদারিত্বের কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version