মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। ইরানের সামরিক বাহিনীর অভিজাত ইউনিট ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, মার্কিন বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলার জবাবে তারা অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পাল্টা অভিযান চালিয়েছে।
শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তাদের নৌবাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও অন্যান্য কৌশলগত স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা পরিচালনা করেছে। তবে কোন কোন স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে বা এতে কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ইরানের দাবি, এর আগে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণাগার এবং উপকূলীয় রাডার ব্যবস্থার ওপর হামলা চালায়। সেই ঘটনার প্রতিক্রিয়াতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
একই বিবৃতিতে আইআরজিসি হরমুজ প্রণালি নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে। তাদের ভাষ্য, ভবিষ্যতে ওই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচলের বিষয়টি ইরানের সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর নির্ভর করবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো পক্ষের নতুন সামরিক পদক্ষেপের জবাবে আরও কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
এর আগে ইরান হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য টোল আরোপ এবং পূর্বানুমতির শর্তের ঘোষণা দেয়। এ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশ—সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার, কুয়েত ও ওমান—ইরানের এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘরিবাবাদি বলেন, উপকূলীয় রাষ্ট্র হিসেবে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় ইরানের ভূমিকাকে উপেক্ষা করে কার্যকর সমাধান সম্ভব নয়। তার দাবি, এ বিষয়ে যেকোনো উদ্যোগে ইরানের অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
