সাবেক অর্থমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে লক্ষ্য করে সংঘটিত গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে খালাস পাওয়ার পর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর।
বৃহস্পতিবার সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল মামলার রায় ঘোষণা করলে আদালত প্রাঙ্গণে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাদের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা করা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, প্রাথমিক অভিযোগপত্রে তাদের নাম না থাকলেও পরে তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের আসামি করা হয়। আদালতের রায়ে তিনি সত্য ও ন্যায়বিচারের প্রতিফলন দেখছেন বলেও মন্তব্য করেন।
একই মামলায় খালাস পাওয়া লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে তিনি বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে কারাবাস করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক কারণে তাকে নানা ধরনের হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়েছে। আদালতের রায়ে তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছও রায়ের পর প্রতিক্রিয়ায় জানান, দীর্ঘদিন মামলার কারণে তাকে কারাবন্দি থাকতে হয়েছে। আদালতের এই সিদ্ধান্তকে তিনি ন্যায়বিচারের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
রায়ে মোট আটজন আসামিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, মামলার এক আসামি সৈয়দ নাইম আহমদকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানার নির্দেশও দেওয়া হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং উপস্থাপিত প্রমাণ পর্যালোচনার পর বিচারক এ রায় দেন। মামলায় শতাধিক সাক্ষীর তালিকা থাকলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাক্ষীর সাক্ষ্য আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত ২০০৪ সালের জুন মাসে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে। ওই হামলায় একজন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হন। সমাবেশে উপস্থিত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত প্রাণে রক্ষা পান।
পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত শেষে একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয় এবং দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর মামলাটির চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয়।
রায় ঘোষণার সময় অধিকাংশ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে একজন আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন বলে আদালত সূত্র জানিয়েছে।

