যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে থাকা ভেনিজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো দেশের সাম্প্রতিক ভয়াবহ ভূমিকম্পের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জনগণের প্রতি সংহতির বার্তা পাঠিয়েছেন। তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসও ওই বার্তায় অংশ নেন।
বৃহস্পতিবার মাদুরোর অফিসিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দুর্যোগকবলিত জনগণের পাশে থাকার আহ্বান জানানো হয়। বার্তায় দেশবাসীকে একসঙ্গে কাজ করার এবং সংকট মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
মাদুরো ও তার স্ত্রী বলেন, এই কঠিন সময়ে জাতীয় ঐক্যই সবচেয়ে বড় শক্তি। তারা নাগরিকদের ধৈর্য, সহযোগিতা এবং মানবিক দায়িত্ববোধ নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
চলতি বছরের শুরুতে কারাকাসে রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন থেকে মার্কিন বাহিনীর অভিযানে আটক হওয়ার পর বর্তমানে মাদুরো দম্পতি নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আটককেন্দ্রে অবস্থান করছেন। তাদের বিরুদ্ধে মাদক পাচার ও অস্ত্র-সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগে বিচারিক প্রক্রিয়া চলছে।
কারাগার থেকে পাঠানো বার্তায় মাদুরো বিশেষভাবে স্থানীয় জনগণকে প্রবীণ, শিশু ও অসুস্থদের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান। পাশাপাশি উদ্ধারকর্মী, দমকল বাহিনী এবং জরুরি চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের সহযোগিতা করার আহ্বানও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ভেনিজুয়েলা বর্তমানে একটি বড় জাতীয় সংকটের মুখোমুখি। তবে জনগণের ঐক্য, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশ এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে বলে তার বিশ্বাস।
এদিকে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো ক্যাবেলো জানিয়েছেন, শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। রাজধানীসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ভবন ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণে এখনও বিস্তারিত মূল্যায়ন চলছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, বুধবার রাতে ভেনিজুয়েলার পশ্চিমাঞ্চলে প্রথমে ৭.২ মাত্রার এবং পরে ৭.৫ মাত্রার আরও একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। দুই দফা কম্পনের ফলে বিস্তীর্ণ এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ভূমিকম্পের তীব্রতা এবং প্রভাবের কারণে প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হতে পারে। তবে হতাহত ও নিখোঁজের বিষয়ে সরকারি কর্তৃপক্ষ এখনো চূড়ান্ত কোনো সংখ্যা প্রকাশ করেনি।
